‘১৯৭১ থেকে আজ পর্যন্ত সব আন্দোলনের শহীদদের প্রতি জাতির ঋণ অমলিন’
জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে শহীদ হওয়া সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার কিছু আগে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের পর তিনি বক্তব্য শুরু করেন।
সংসদের অধিবেশন কক্ষে দেওয়া এই বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পথ কখনো সহজ ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত ইতিহাস থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়েই দেশের অগ্রযাত্রা এগিয়ে এসেছে।
বক্তব্যের শুরুতেই তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণ করেন। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র, অধিকার ও ন্যায়ের দাবিতে সংঘটিত আন্দোলনগুলোতে প্রাণ দেওয়া মানুষদের প্রতিও সম্মান জানান। তিনি বলেন, “এই দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র কোনো এক দিনের অর্জন নয়; এটি অসংখ্য ত্যাগ ও সংগ্রামের ফল।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগই বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছে। তাই তাদের স্মরণ করা কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং জাতির নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, দেশের ইতিহাসে এমন বহু অধ্যায় রয়েছে যেখানে সাধারণ মানুষ অধিকার আদায়ের জন্য রাস্তায় নেমেছে এবং অনেকেই জীবন দিয়েছেন। সেই সব সংগ্রামের স্মৃতি থেকেই বর্তমান প্রজন্মকে শিক্ষা নিতে হবে।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঐক্যের ওপরও গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। জাতির অগ্রগতির জন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সংসদের এই বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী একদিকে দেশের ঐতিহাসিক সংগ্রামকে স্মরণ করেছেন, অন্যদিকে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিবেশে ঐক্যের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে আন্দোলন-সংগ্রামের শহীদদের স্মরণ করে তিনি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারাবাহিকতার ওপর আলোকপাত করেছেন।
সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন। বক্তব্য চলাকালে কয়েকবার টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান সংসদ সদস্যরা। অধিবেশনের শুরুতে কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে একটি গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়, যা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।





