জাতীয় ফিচার

১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই মন্ত্রিসভার শপথের প্রস্তুতি

১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই মন্ত্রিসভার শপথের প্রস্তুতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর এখন দেশজুড়ে বইছে নতুন সরকার গঠনের হাওয়া। দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক খরা কাটিয়ে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে এককভাবে ক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গেজেট প্রকাশের পর নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ এবং আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৫১ আসনের কোটা অনেক আগেই পার করেছে বিএনপি। দলটি দুই শতাধিক আসনে জয়লাভ করে ‘ম্যাজিক ফিগার’ স্পর্শ করেছে, যা তাদের জন্য কেবল সরকার গঠন নয়, বরং সংবিধানে যেকোনো পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন নিশ্চিত করেছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। এরপরই স্পিকারের কাছে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রাথমিক সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভায় কারা আসছেন? আলোচনার কেন্দ্রে তরুণ ও অভিজ্ঞদের সমন্বয়

নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা কেমন হবে, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনার শেষ নেই। দলের নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, এবার মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি একঝাঁক উচ্চশিক্ষিত ও বিশেষজ্ঞ তরুণ মুখ দেখা যেতে পারে। রাষ্ট্র সংস্কারের ‘৩১ দফা’ বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য দক্ষ ব্যক্তি বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক কমিটি।

টানা ১৫ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থাকার পর রাজপথ থেকে সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনায় আসা বিএনপির জন্য এক বড় পরীক্ষা। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাত সংস্কার এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম কাজ। ভোটাররা কেবল বিএনপিকে বিজয়ীই করেনি, বরং তাদের কাঁধে এক বিশাল দায়িত্বের পাহাড় চাপিয়ে দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা একটি ‘দ্বিমুখী তলোয়ার’। এটি একদিকে যেমন দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেয়, অন্যদিকে জনগণের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে তা দ্রুত জনরোষে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। তাই মন্ত্রিসভা গঠনে দলবাজির চেয়ে যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এক নজরে সরকার গঠনের রূপরেখা:

  • গেজেট জারি: আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা।

  • সংসদ সদস্যদের শপথ: গেজেট জারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্পিকারের মাধ্যমে শপথ গ্রহণ।

  • সরকার গঠন: রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন।

  • লক্ষ্যমাত্রা: ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র