১৬৫ আসনে বিএনপির জয়লাভ, আগামী সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২১৩টির বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এতে বিএনপি ও তার জোটসঙ্গীরা ১৬৫টি আসনে জয়ী হয়েছেন, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৪৫টি আসনে জয় পেয়েছে, এবং অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্ররা ২-৩টি আসনে সফল। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর এই নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে আমূল বদলে দিয়েছে।
এই নির্বাচন ছিল এক অভূতপূর্ব টার্নিং পয়েন্ট। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এই ভোটে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করেনি। ফলে মূল লড়াই হয়েছে বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে। ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল—অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের দাবি প্রধান হয়ে উঠেছে। বিএনপি এসব ইস্যুকে কেন্দ্র করে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে, বিশেষ করে তরুণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এবারের নির্বাচনে সক্রিয় প্রচারণা চালিয়েছে। দলের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিনের দমন-পীড়নের পরও জনসভা, কর্মী সমাবেশ ও ডিজিটাল প্রচারের মাধ্যমে জয়ের পথ প্রশস্ত করেছে। জোটের অংশীদার ছোট দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা করে তারা কৌশলগত সুবিধা নিয়েছে। ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনাসহ বড় শহর ও গ্রামীণ এলাকায় বিএনপির প্রভাব স্পষ্ট।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ১১ দলীয় জোট গঠন করে শক্তিশালী চ্যালেঞ্জ ছুড়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত গ্রুপগুলোকে সঙ্গে নিয়ে তারা ইসলামী মূল্যবোধ, সামাজিক ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।





