হোন্ডা-গুন্ডার রাজনীতির দিন শেষ! ন্যায় ও সত্যের পক্ষে ঐক্যের আহ্বান হাসনাত আব্দুল্লাহর
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, হোন্ডা-গুন্ডার রাজনীতির যুগ এখন অতীত। নেতৃত্ব এখন আর শক্তি বা গুন্ডামির ওপর নির্ভর করবে না, বরং নেতার গুণাবলি ও সততার মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এ ধরনের রাজনীতির সমাপ্তি ঘটেছে।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার বড়কামতা ইউনিয়নের ব্রাহ্মণখাড়া গ্রামে এনসিপির ‘উঠানে নতুন সংবিধান’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, এনসিপি সবসময় ন্যায় ও সততার পক্ষে। যারা ন্যায়ের পথে থাকবেন, তারাই এনসিপির সঙ্গী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এনসিপির নেতা হয়ে অন্যায় বা অবিচার করে হাজার হাজার লোক জড়ো করার কোনো মূল্য নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এনসিপি এমন নেতৃত্ব চায় না যারা গুন্ডামি বা শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে।
তিনি আরও বলেন, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে প্রতিটি গ্রাম, মহল্লা ও ইউনিয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়তে হবে। অবিচার ও অনাচারের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, “আপনারা যদি সত্য ও ন্যায়ের পথে থাকেন, আমি হাসনাত আব্দুল্লাহ সবসময় আপনাদের পাশে থাকব।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণে অনেক সময় স্থানীয় নেতাকর্মীরা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তবে, গ্রামের মানুষ যদি অন্যায়ের বিরুদ্ধে একত্রিত হয়, তাহলে অপরাধীরা আর সাহস পাবে না।
হাসনাত আব্দুল্লাহ সমালোচনা করে বলেন, যারা অপরাধ দমনের দায়িত্বে রয়েছে, তাদেরই অপরাধীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক দেখা যায়। অনেক সময় অভিযোগ করতে থানায় গেলে দেখা যায়, অপরাধী পুলিশের সঙ্গে বসে চা খাচ্ছে, আর সাধারণ মানুষ থানায় ঢুকতে পারছে না। তিনি বলেন, এর জন্য পুলিশকে পুরোপুরি দায়ী করা যায় না, কারণ স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের চাপে পুলিশকে কাজ করতে হয়। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক সময় পুলিশকে ট্রান্সফারের ভয় দেখানো হয়, যা তাদের নিরপেক্ষ কাজে বাধা সৃষ্টি করে।
তিনি স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ মানুষকে সংঘবদ্ধ হয়ে অপরাধ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যদি গ্রামের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়, তাহলে অপরাধীদের সাহস কমে যাবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।





