হরমুজ প্রণালি অচল: যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে ইরান!
প্রায় চার সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। ইরানের হুমকি ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই জলপথে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি—যা পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে—বর্তমানে কার্যত অচল। এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিশ্ববাজারে পৌঁছায়। কিন্তু সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে গত চার সপ্তাহ ধরে এ পথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ইরানের হুমকি এবং সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি নিরাপত্তার ঝুঁকি এড়াতে তাদের জাহাজ এ পথে পাঠানো বন্ধ রেখেছে। ফলে তেল সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে বৈশ্বিক বাজারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বে ব্যবহৃত প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। শুধু তাই নয়, কৃষিখাতে ব্যবহৃত সার উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালও এই পথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়। ফলে এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে খাদ্য উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
জ্বালানি বাজারে এরই মধ্যে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিশেষ উদ্বেগের কারণ। আমদানি-নির্ভর অর্থনীতিগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক ও সামরিক উভয় দিক থেকেই পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি তেলবাহী জাহাজগুলোকে মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তা দিয়ে পার করার পরিকল্পনা বিবেচনা করছেন। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, এই উদ্যোগগুলো কার্যকর করা সহজ নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অবস্থান এখানে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে অপ্রচলিত যুদ্ধপদ্ধতি—যেমন কম খরচে তৈরি ড্রোন এবং সমুদ্রমাইন—ব্যবহার করে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়িয়েছে। এর ফলে বৃহৎ সামরিক শক্তির পক্ষেও সরাসরি মোকাবিলা করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এছাড়া ভৌগোলিকভাবে হরমুজ প্রণালির একটি বড় অংশ ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন উপকূলের খুব কাছাকাছি। এই অবস্থান ইরানকে দ্রুত আঘাত হানার এবং সহজে প্রতিরক্ষা গড়ে তোলার সুবিধা দেয়। ফলে আন্তর্জাতিক জোটের জন্য এই পথ নিরাপদ রাখা একটি জটিল চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।





