স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় গণভোটের ব্যাপক প্রচারণার নির্দেশ
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর আলোকে সংবিধান সংস্কারের ওপর ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই গণভোটে জনগণের সরাসরি রায়ের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের মৌলিক প্রস্তাবগুলো অনুমোদিত হবে কি না, তা নির্ধারিত হবে।
ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। উভয় অধিদপ্তরের আওতাধীন সকল শিক্ষা দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানকে এ নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
গতকাল সোমবার (১২ জানুয়ারি) মাউশি ও মাদ্রাসা অধিদপ্তর থেকে পৃথক চিঠি জারি করে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
মাউশির সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মো. খালিদ হোসেন স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গণভোটের বিষয়ে ভোটারদের সচেতনতা বাড়াতে সকল সরকারি যোগাযোগ মাধ্যমে (পত্র, আদেশ, প্রজ্ঞাপন, পরিপত্র ইত্যাদি) নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত গণভোটের নির্ধারিত লোগো ব্যবহার করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের সম্মুখভাগে দৃশ্যমান স্থানে অন্তত ২টি করে খাড়া ব্যানার প্রদর্শনের ব্যবস্থা নিতে হবে।
অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ আরিফুর রহমান মজুমদার স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, অভিভাবক সমাবেশ, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে পরিবারের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানের নোটিশ বোর্ড, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সকল প্ল্যাটফর্মে প্রচারণা চালাতে হবে।
এসব নির্দেশনা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনার আলোকে জারি করা হয়েছে।
জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ উল্লিখিত মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- প্রধানমন্ত্রীর পদে সর্বোচ্চ ১০ বছরের মেয়াদ সীমা
- জাতীয় সংসদে উচ্চকক্ষ (১০০ সদস্যের) গঠন এবং সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের অনুমোদন বাধ্যতামূলক
- নির্বাচন কমিশন, পিএসসি ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠনে সরকারি-বিরোধী দলের যৌথ ভূমিকা
- বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ
- নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, নাগরিক অধিকার সম্প্রসারণ, স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়ন ইত্যাদি





