সরকারি কর্মচারীদের বেসিক বাড়ছে ৫০%, শতভাগ বৃদ্ধির গুঞ্জনে এমপিওভুক্তরা
সরকারি চাকরিজীবী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করছে সরকার। নতুন এই কাঠামোতে মূল বেতন বা বেসিক সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে। বিশেষ করে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেসিক শতভাগ বৃদ্ধির জোরালো গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সংগতি রেখে সরকারি চাকুরিজীবীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই মেগা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ২০১৫ সালের অষ্টম পে-স্কেলের পর দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় কেটে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে মূল্যস্ফীতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশচুম্বী দামের কারণে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মচারীরা চরম হিমশিম খাচ্ছিলেন। নতুন পে-স্কেল চালুর এই সরকারি গুঞ্জন তাই প্রশাসন ও শিক্ষা খাতে এক বিশাল স্বস্তির সুবাতাস বয়ে এনেছে।
সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই পে-স্কেলের সুফল কেবল মূল ধারার সরকারি আমলা বা কর্মচারীরাই পাবেন না, বরং এর আওতায় আসছেন দেশের বিপুল সংখ্যক এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীরাও।
পে-কমিশনের প্রাথমিক খসড়া ও সুপারিশ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নতুন স্কেল কার্যকর হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদগুলোতে বেতনের অঙ্কে বড় পরিবর্তন আসবে। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমানে চতুর্থ গ্রেডের আওতাভুক্ত এমপিওভুক্ত কলেজের অধ্যক্ষদের মূল বেতন (বেসিক) ৫০ হাজার টাকা। নতুন কাঠামোর ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির নিয়মটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে তাদের বেসিক এক লাফে ২৫ হাজার টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ৭৫ হাজার টাকায়।
একই অনুপাতে অন্যান্য উচ্চতর গ্রেড এবং সহকারী শিক্ষকদের বেতনও সম্মানজনক হারে বৃদ্ধি পাবে। তবে সবচেয়ে বড় চমক আসতে পারে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য। প্রশাসনের এই স্তরে কর্মরতদের বেতন দ্বিগুণ করার যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তা যদি সত্যি হয়, তবে তা হবে দেশের ইতিহাসে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে বড় আর্থিক প্রণোদনা।





