সবার আগে বাংলাদেশ; তারেক রহমানের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতির ডাক
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল উপজেলার দরুন চরজানা বাইপাস এলাকায় নির্বাচনী জনসভায় ঘোষণা করেছেন, আগামী দিনের রাজনীতি হবে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ও দেশের উন্নয়নের। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ দেশ কোনো দল বা ব্যক্তির নয়—এর মালিক লাখো কোটি জনগণ, তাই সবার আগে বাংলাদেশ। এই বক্তব্য আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জনগণের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা জাগিয়েছে।
দীর্ঘ ২১ বছর পর টাঙ্গাইলে তারেক রহমানের এই জনসভা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দরুন চরজানা বাইপাসের খোলা মাঠে লাখো মানুষের ভিড় জমে উঠেছিল। সিরাজগঞ্জ থেকে এসে এখানে বক্তব্য রাখেন তিনি, যা তার নির্বাচনী প্রচারণার তৃতীয় দিনের অংশ। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জনসভায় তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে রাস্তার দু’পাশে মানুষের ঢল নেমেছিল, যা বিএনপির জনপ্রিয়তার প্রতিফলন বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
তারেক রহমান বলেন, “বহু কষ্টে, অনেক রক্ত দিয়ে আমরা পুনরায় স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছি। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শুধু ভোট নয়—এটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের দিন হতে হবে।” তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, রাজনীতির লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ ও দেশের উন্নয়ন। “এ দেশ কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এর মালিক জনগণ। সবার আগে বাংলাদেশ—এই চিন্তাই আমাদের পথ দেখাবে।”
এই বার্তা বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ কারণ, ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তারেক রহমানের বক্তব্যে ৫ আগস্টের সেই স্পিরিটকে জাগিয়ে তোলার আহ্বান ছিল। তিনি বলেন, যারা দীর্ঘদিন ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তাদের দুঃশাসনের অবসান ঘটাতে রাজপথ ও ভোটকেন্দ্রে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। টাঙ্গাইলের উন্নয়ন নিয়েও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন—এ অঞ্চলকে শিল্পের শহরে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করবেন।
স্থানীয় নেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু তারেক রহমানের কাছে টাঙ্গাইলবাসীর সাতটি উন্নয়ন দাবি তুলে ধরেন। জনসভায় উপস্থিতরা স্লোগান তুলে সমর্থন জানান: “ভোট দিবো কিসে—ধানের শীষে!” এই স্লোগান দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।





