শেখ হাসিনাকে ভারতে নেওয়া ও প্রত্যর্পণ ইস্যুতে মুখ খুললেন ভারতীয় হাইকমিশনার
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে নিয়ে যেতে ভারতীয় সেনাবাহিনী বা বিমানবাহিনীর কোনো ভূমিকা ছিল না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। একই সঙ্গে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়া বা প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে আদালতের জটিলতা ও চলমান পর্যালোচনার কারণে এই মুহূর্তে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো সম্ভব নয় বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনফারেন্স’-এর একটি আন্তর্জাতিক কর্ম অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার এই মন্তব্য করেন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এই আঞ্চলিক সম্মেলনে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিক ও অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী সে দিনের ঘটনার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের আকস্মিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত উদ্ভূত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল। বাংলাদেশ থেকে বিশেষ সামরিক বিমানে তিনি সেখানে পৌঁছান এবং দিল্লি তখন একটি অনাকাঙ্ক্ষিত কূটনৈতিক পরিস্থিতি এড়াতে তাদের ভূখণ্ডে অবতরণের অনুমতি দিয়েছিল।
সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে কূটনীতিক স্পষ্ট করে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মুখে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কোনো যান বা সরাসরি হস্তক্ষেপ ছিল না। শেখ হাসিনা যে বিমানে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন, সেটি বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর ছিল। ভারতের আকাশসীমা ও বিমানঘাঁটি ব্যবহারের প্রক্রিয়াটি ছিল সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রোটোকল ও জরুরি পরিস্থিতিতে নেওয়া কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের অংশ।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সেই সময় পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল ছিল। যদি ভারতে অবতরণের সুযোগ না দেওয়া হতো, তবে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার ভূ-রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আরও বড় ধরনের সংকট ও জটিলতা তৈরি হতে পারত। সে কারণে একজন বর্ষীয়ান আঞ্চলিক নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তৎকালীন ভারত সরকার মানবিক ও কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করে।




