জাতীয় ফিচার

শব্দদূষণ রোধে কঠোর সরকার; জরিমানা

জনস্বাস্থ্য রক্ষায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক চিঠিতে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে: ‘হর্ন বাজাবেন না। হর্ন বাজালে পুলিশ জরিমানা আরোপ করবে।’ এছাড়া, সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোতে এই বার্তা স্ক্রল আকারে প্রচারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এই উদ্যোগের পিছনে মূল কারণ অতিমাত্রায় শব্দদূষণের ফলে সৃষ্ট বহুমাত্রিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি। মন্ত্রণালয়ের তথ্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শব্দদূষণের কারণে কানে কম শোনা, আংশিক বা পূর্ণ বধিরতা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা, মনোযোগের অভাবসহ বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ছে এবং গর্ভস্থ শিশু বধির বা প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। এছাড়া, হাসপাতালের রোগী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, ট্রাফিক পুলিশ, যানবাহন চালক, পথচারী এবং উচ্চ শব্দের উৎসের কাছে কর্মরত শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এর ফলে দেশের মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

গত বছরের ২৪ নভেম্বর সরকার গেজেটে জারি করা শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫-এ যানবাহনের হর্ন সংক্রান্ত কঠোর বিধিনিষেধ যুক্ত করা হয়েছে। বিধি-৬(২) অনুসারে, কোনো ব্যক্তি মোটরযান বা নৌযানে অননুমোদিত শব্দের মান অতিক্রমকারী হর্ন স্থাপন বা ব্যবহার করতে পারবেন না। বিধি-৬(৩) অনুসারে নীরব এলাকায় এবং বিধি-৬(৪) অনুসারে আবাসিক এলাকায় রাতে হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিধি-২০ অনুসারে, এসব বিধি লঙ্ঘন করলে পুলিশ কর্মকর্তা সরাসরি জরিমানা আরোপ করতে পারবেন। নতুন বিধিমালায় হাইড্রলিক বা অতিরিক্ত জোরালো হর্ন আমদানি, উৎপাদন, মজুত বা বিক্রির ক্ষেত্রেও কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত হয়েছে, যা সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা পর্যন্ত হতে পারে।

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এর আগে জানিয়েছেন যে, নতুন বিধিমালায় ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট পর্যায়ের কর্মকর্তারা সরাসরি শব্দদূষণের জন্য জরিমানা করতে পারবেন, যা আইন প্রয়োগে বড় অগ্রগতি। এছাড়া, ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তি বা নবায়নের জন্য শব্দদূষণ সচেতনতা প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সরকার শুধু হর্ন নিয়ন্ত্রণই নয়, সামগ্রিক শব্দদূষণ কমিয়ে জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং নীরবতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিধিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হলে ঢাকাসহ দেশের শহরগুলোতে শব্দের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস পাবে। তবে, সাফল্যের জন্য জনসচেতনতা এবং কঠোর আইন প্রয়োগ অপরিহার্য।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র