রাড্ডায় ভাঙচুরের ঘটনায় এমপি মিষ্টির সংশ্লিষ্টতা পেলে কঠোর ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রাড্ডায় ভাঙচুর ও লুণ্ঠনের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আইন সবার জন্য সমান এবং তদন্তে কারও বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে দল-মত নির্বিশেষে কাউকেই কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ছাড় দেওয়া হবে না।
বুধবার সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মিরপুরের ওই আলোচিত হামলা প্রসঙ্গে উঠে আসে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম। জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ ও স্থানীয় ক্যাডারদের তাণ্ডবে এমপি মিষ্টির ইন্ধন রয়েছে এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে সরকার। প্রাথমিক তদন্তের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সেখানে যদি বিএনপির এই নেত্রীর কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ইন্ধন কিংবা সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তবে তাকেও আইনের সমকক্ষ হতে হবে। অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয়কে আশ্রয় হতে দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দুই শতাধিক সশস্ত্র মুখোশধারী দুর্বৃত্ত মিরপুর-১-এর শাহ আলী থানা এলাকার ঐতিহ্যবাহী রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে অতর্কিত হানা দেয়। নিরাপত্তা প্রহরীদের জিম্মি করে প্রতিষ্ঠানটির জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী, দামি ওষুধ, জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির ফ্রিজ, জেনারেটর, নগদ টাকা এবং ল্যাপটপ-কম্পিউটার লুট করা হয়। শুধু লুটপাটেই ক্ষান্ত হয়নি দুর্বৃত্তরা; ভারী এক্সক্যাভেটর (ভেকু) এনে পুরো প্রাঙ্গণের চারটি ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটি স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও গর্ভবতী মায়েদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিতে বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে।
ঘটনার দিন শাহ আলী থানার কাছেই দীর্ঘ সময় ধরে হামলাকারীরা সংগঠিত হয়ে এ তাণ্ডব চালালেও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছিল। বিষয়টি নজরে আসতেই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শাহ আলী থানার তৎকালীন ওসির চরম অবহেলা প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে গোয়েন্দা পুলিশ ও স্থানীয় থানা একাধিক স্থানে সফল অভিযান চালিয়ে কেরানীগঞ্জ ও আশপাশের এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয়েছে। তাদের হেফাজতে নেওয়া দুটি কাভার্ডভ্যান থেকে ৪৫টিরও বেশি পদের লুণ্ঠিত চিকিৎসাসামগ্রী উদ্ধার করা হয়।





