অন্যান্য অপরাধ জাতীয় ঢাকা সংযোগ দেশ সংযোগ

মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্যাতন; শ্যামপুর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ নারীর

রাজধানীর শ্যামপুর থানা পুলিশ মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী ও নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন মোসাম্মৎ মুনা গোমস্তা নামে এক নারী। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী , পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তপূর্বক ন্যায়বিচার দাবি করে লিখিত আবেদন করেছেন।

সম্প্রতি রাজধানীর বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্যাব) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে হাজতে পাঠানো হয়।

এসব অভিযোগে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ২৭ আগস্ট তার পূর্ব পরিচিত শিরিন বেগমের ভাড়া বাসায় জন্ডিস রোগের চিকিৎসার জন্য যান তিনি। সেখানে তিনি একটি রুমে প্রবেশ করলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পিছন থেকে তাকে আঘাত করা হয়। বেধরক মারধর শুরু করে কয়েকজন ব্যক্তি।

এ বিষয়ে তিনি অভিযোগে বলেন, সেখানে তাকে চারজন ব্যক্তি মারধর করে। পরে তিনি বুঝতে পারেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। এসময় তার কাছ থেকে ডাচ বাংলা ব্যাংক থেকে তোলা ৮০ হাজার টাকা ও কিছু খুচরা টাকাসহ মোট ৯৬ হাজার টাকা ৩টি আংটি ও একটি হাত ঘড়ি ছিনিয়ে নেয় তারা। এরপর তার হাত ও মুখ বাঁধা হয়।

সেখানে তার পূর্ব পরিচিতি পলি ও কলি নামে দুই মহিলাসহ ৪-৫ জন ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।

মোনা গোমস্তা জানান, এসময় জীবন বাঁচাতে চিৎকার করলে তারা হাত ও মুখের বাধন খুলে দেয়। এরপর তিনি দৌড়ে রুমের বাইরে গিয়ে রুমের দরজা আটকে দিয়ে ৯৯৯ কল করেন। পরবর্তীতে শ্যামপুর থানার ওসি ফোন নাম্বারে পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে মেসেজ পাঠানো হয়। ম্যাসেজ পাঠানোর পর ওসির নম্বরে কল করে তাকে নির্যাতনের কথা বলার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে।

এরপর তার কথা শুনে এবং তার শারীরিক অবস্থা দেখে নির্যাতনকারীদের আটক করে থানায় নিয়ে যান থানার এসআই সোহাগ। পরে তাকেও থানায় যেতে বলা হয়। শ্যামপুর থানায় গিয়ে ওসির সাথে দেখা করতে চাইলেও দেখা করতে দেওয়া হয়নি মোনা গোমস্তাকে। ওইদিন সন্ধ্যার পর ওসির রুমে তাকে ডাকা হয়, সেখানে নোংরা ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে অভিযুক্ত নারীকে কথা নানা হুমকি দেয়া হয়। লিখিত অভিযোগ দিতে চাইলে, উল্টো পুলিশ তাকে মারধর করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো জানান, একপর্যায়ে মোনা গোমস্তা অসুস্থ হয়ে পড়লে, তিনি হাসপাতালে যেতে চাইলে, বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত থানা থেকে বের হতে পারবেন না বলে হুমকি দেয়া হয়। এরপর রাত ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত থানার কর্মরত কয়েকজন পুলিশ সদস্য শারিরিক নির্যাতনসহ নানা হুমকি দেন। তাদের হাত থেকে বাঁচতে তাদের হাত পা ধরে আকুতি করেন জানিয়ে, থানার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখলে প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে ভুক্তভোগি নারী লিখিত বক্তব্যে জানিয়েছেন। একপর্যায়ে তার কাছে টাকা দাবি করে হাতের ফোন সেটটি পুলিশ নিয়ে যান বলে জানান।

একপর্যায়ে তারা মোনা গোমস্তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী। এ সময় তিনি পুলিশ সদস্যদের বোঝানোর চেষ্টা করেন এবং নিজেকে একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, দয়া করে তার সাথে যেন এই আচরণটি তারা না করেন। অভিযোগকারী অভিযোগে বলেন, থানা পুলিশ তার পরিবারের সাথে কোন যোগাযোগ করতে দেয়নি এবং তার কাছে থাকা দুটি মোবাইল ফোন তারা নিয়ে নেয়।

পরে ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে তার বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টাসহ কয়েকটি ধারায় মামলা দিয়ে পরের দিন আদালতে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। দীর্ঘ ২১ দিন জেল খাটার পরে তিনি জামিনে মুক্ত হয়েছেন।

এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ ঘটনায় ন্যায়বিচারের আবেদন জানান। আবেদনে বলেন, এখনো তিনি শরীরে বিভিন্ন অঙ্গে পুলিশী নির্যাতনের চিহ্ন নিয়ে বয়ে বেড়াচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে, শ্যামপুর থানায় ঘটে যাওয়া ওই ঘটনাটির তদন্তপূর্বক ন্যায় বিচার দাবি করেন অভিযোগকারী নারী।

আরও পড়ুনঃ “এ্যানির বাসার কোনো দরজা ভাঙা হয়নি; মিথ্যা বলেছেন তিনি”

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র