মাগুরায় শিশু আছিয়ার হত্যার রায়: হিটু শেখের ফাঁসির আদেশ
আজ মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আট বছরের শিশু আছিয়ার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক এম জাহিদ হাসান। এই রায়ে হিটু শেখের উপর এক লাখ টাকা জরিমানাও আরোপ করা হয়েছে। তবে মামলার অন্য তিন আসামি—জাহেদা বেগম, সজীব শেখ ও রাতুল শেখ—প্রমাণের অভাবে খালাস পেয়েছেন।
গত ৬ মার্চ মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নৃশংসভাবে ধর্ষণের শিকার হয় শিশু আছিয়া। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে মাগুরার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে এবং পরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুর্ভাগ্যবশত, ১৩ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে এই কোমলপ্রাণ।
ঘটনার পর শিশুটির মা আয়েশা আক্তার মাগুরা সদর থানায় হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে হিটু শেখ ১৫ মার্চ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন, যেখানে তিনি নিজেকে একমাত্র অপরাধী হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে তদন্ত কর্মকর্তা চারজনের বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার বিচার প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত সম্পন্ন হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়, যেখানে ২৯ জন সাক্ষী তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। মেডিকেল রিপোর্ট, জব্দ তালিকা ও সাক্ষীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে হিটু শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।
এই রায়ে আছিয়ার পরিবার আংশিক সন্তোষ প্রকাশ করলেও, অন্য তিন আসামির খালাস নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন শিশুটির মা। তিনি বলেন, “আমার মেয়ের জন্য ন্যায়ের পুরোটা পাইনি। আমরা এই রায় মেনে নিতে পারছি না।” রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মনিরুল ইসলাম মুকুল জানান, তারা উচ্চ আদালতে আপিলের বিষয়ে আলোচনা করবেন।
এই ঘটনা দেশব্যাপী ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছিল। মাগুরাসহ সারা দেশে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। স্থানীয় আইনজীবীরা আসামিদের পক্ষে কোনো আইনি সহায়তা না দেওয়ার ঘোষণা দেন।





