মদের বোতলে পানি খাওয়ায় ভুল বুঝেছেন হামজা : রওনক
কুষ্টিয়ার আলোচিত ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজা তার সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যের কারণে তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। একটি ভাইরাল ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে দেখি ছাত্ররা সকালে মদ দিয়ে কুলি করে। এটা দেখে আর আমি ওখানে পড়িনি।’ এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ।
এই ঘটনায় বিব্রত হয়েছে মুফতি আমির হামজার রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। তবে তার এই বক্তব্যসহ আরও কিছু মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় দলের পক্ষ থেকে তাকে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আজ রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) মুফতি আমির হামজা গণমাধ্যমের কাছে ক্ষমা চেয়ে জানিয়েছেন, তিনি ভবিষ্যতে কোরআনের তাফসিরের বাইরে কোনো বক্তব্য দেবেন না।
সামাজিক মাধ্যমে এই বক্তব্য নিয়ে ট্রল ও ব্যঙ্গের ঝড় বইছে। জনপ্রিয় অভিনেতা রওনক হাসানও এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। গতকাল শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) তিনি তার ফেসবুক পোস্টে মুফতি আমির হামজার ছবি শেয়ার করে ব্যঙ্গাত্মকভাবে লিখেছেন, ‘বেচারা মিথ্যা কিছু বলে নাই মনে হয়! সদ্য কৈশোর পেরুনো সহজ সরল ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে গেল। সে তো আর জানেনা শহর অঞ্চলে মানুষ কাঁচের মদের বোতলে পানি রাখে। হলে গিয়ে সে সেটাই দেখছে যে পোলাপান মদের বোতলের পানি দিয়ে কুলি করছে। সেটাই ধরে নিয়েছে মদ দিয়ে কুলি করতেছে! বেচারা!’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আপনারা খামাখাই সহজ সরল একটা মানুষকে মিথ্যাবাদী, মোনাফেক বলছেন।’
এই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে নেটিজেনদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একজন লিখেছেন, ‘বেচারা এতটাই সহজ-সরল যে, মদের বোতলে পানি রাখে সেটা না জানলেও বোতলটা যে মদের সেটা ঠিকই চিনতে পারছে।’
আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘এর মতো মিথ্যুক বক্তা বাংলাদেশে আর দ্বিতীয়টা নেই।’ অন্য একজন লিখেছেন, ‘জামায়াতের সব খারাপ নয়, কিন্তু এই বক্তা বড় খারাপ। অতিরিক্ত মিথ্যাবাদী।’
প্রসঙ্গত, মুফতি আমির হামজার বাড়ি কুষ্টিয়ায়। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আল কোরআন ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। তার বক্তৃতা সাধারণত ধর্মীয় বিষয়ের উপর হলেও, এবারের বিতর্কিত মন্তব্য তাকে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। এই ঘটনার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও সামাজিক মাধ্যমে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকে তার বক্তব্যকে ‘অসত্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট করার প্রচেষ্টা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
বিতর্কের মধ্যেও মুফতি আমির হামজা তার রাজনৈতিক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এই ঘটনা তার প্রার্থিতার উপর কী প্রভাব ফেলবে, তা আগামী দিনগুলোতেই পরিষ্কার হবে।





