ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্প: জোড়া কম্পনে ধ্বংসস্তূপ রাজধানী কারাকাস
ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর দেশটির রাজধানী কারাকাসসহ বিস্তীর্ণ এলাকা এখন এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে পর পর দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূকম্পন অনুভূত হয়, যার তীব্রতা ছিল রিখটার স্কেলে যথাক্রমে ৭.১ এবং ৭.৫। প্রায় এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে লাতিন আমেরিকার এই দেশটিতে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আকস্মিক এই জোড়া আঘাতের পর দেশজুড়ে চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবারের এই প্রলয়ঙ্কারী ঘটনার পর ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের রাস্তাঘাট এখন কংক্রিটের স্তূপে ঢাকা। ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় প্রধান কম্পনটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, শহরের শত শত বহুতল ভবন তাসের ঘরের মতো কাঁপতে শুরু করে। আতঙ্কে লাখ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা রাস্তায় নেমে আসেন। অনেক এলাকায় বহুতল ভবনের দেয়াল ধসে ভেতরের আসবাবপত্র রাস্তা থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
শহরের আলতামিরা নামক একটি আবাসিক এলাকায় ২২ তলা একটি বিশাল ভবন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। রাজধানীর আকাশ এখন ধুলোর মেঘে আচ্ছন্ন। এই ভয়াবহ দুর্যোগের কারণে কারাকাসের সিমোন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় সমস্ত বিমান ওঠানামা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
আঞ্চলিক ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার মতে, ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্প এর এই জোড়া রূপ মূলত একটি ‘আফটারশক’ বা মৃদু কম্পন ছিল না, বরং এটি ছিল ব্যাক-টু-ব্যাক ‘ডাবল প্লেট স্ট্রাইক’। প্রথম কম্পনটির গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮ মাইল নিচে এবং দ্বিতীয়টির গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার।
উৎসস্থল মোরোন উপকূলীয় এলাকার কাছাকাছি হওয়ায় ক্যারিবীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দ্বীপরাষ্ট্রে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তবে মূল কম্পনের পর প্রায় ২০টিরও বেশি আফটারশক বা অনুকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে, যা উদ্ধারকারীদের কাজকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।





