প্রসূন আশীষের ওপর বর্বরোচিত হামলা: ডিআরইউ ও বিএসআরএফ’র তীব্র নিন্দা ও বিচার দাবি
রাজধানীর বুকে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে সময় টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি প্রসূন আশীষের ওপর বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে দেশের সাংবাদিক সমাজ।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) এবং বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিক্রিয়া
গত কয়েকদিন ধরেই দেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নানা মহলে উদ্বেগ কাজ করছে। এর মধ্যেই সময় টেলিভিশনের সিনিয়র সাংবাদিক প্রসূন আশীষের ওপর মব সৃষ্টি করে হামলা গণমাধ্যমের স্বাধীন পথচলার ওপর এক বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। পেশাগত কাজ শেষ করে অফিসে ফেরার পথে প্রকাশ্য দিবালোকে এই হামলা প্রমাণ করে যে, অপরাধীরা কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) এক কড়া বিবৃতিতে এই ঘটনার বিচার দাবি করেছে। সংগঠনের সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “একজন পেশাদার সাংবাদিকের ওপর এমন হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি কেবল একজন ব্যক্তির ওপর হামলা নয়, বরং মুক্ত সাংবাদিকতার টুঁটি চেপে ধরার অপপ্রয়াস।”
তারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা না হয়, তবে সাংবাদিক সমাজ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) পৃথক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনের সভাপতি মাসউদুল হক ও সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল বলেন, সচিবালয় বিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কাজ করা একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক যখন অনিরাপদ বোধ করেন, তখন সাধারণ সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তারা মনে করেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই বারবার গণমাধ্যমকর্মীরা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন।
প্রশাসনের প্রতি জোরালো দাবি
ডিআরইউ ও বিএসআরএফ উভয় সংগঠনের নেতারাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাদের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি নিয়ে দ্রুততম সময়ে হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
সাংবাদিক নেতারা স্পষ্ট করে বলেছেন, “তদন্তের নামে কালক্ষেপণ সহ্য করা হবে না।”
সাংবাদিকদের সুরক্ষায় একটি স্থায়ী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং সাংবাদিকদের যাতায়াতের পথে বিশেষ নজরদারির প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবি।





