প্রধানমন্ত্রীর ঠিক করা মজুরিতে কাজে ফিরল চা শ্রমিকেরা
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর শ্রমিকদের ১৭০ টাকা মজুরিতে মালিকপক্ষের সম্মতির পর কাজে ফিরছে চা শ্রমিকরা।
আজ রোববার সকাল থেকে সিলেটের বিভিন্ন চা-বাগানে নিয়মানুযায়ী কাজে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকেরা। আগের মতই শ্রমিকদের পিঠের ঝুলি ভরে উঠছে চা পাতায়।
শনিবার বিকালে গণভবনে চা বাগান মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চা-বাগানের মালিক এম শাহ আলমের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস জানান, শ্রমিকদের আবাসন, রেশনসহ অন্যান্য যেসব সুযোগসুবিধা দেয়া হয়, তার সঙ্গে এই দৈনিক মজুরি মিলিয়ে তাদের প্রতিদিনের আয় ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা হবে। এর সঙ্গে আনুপাতিকহারে শ্রমিকদের বোনাস, বার্ষিক ছুটি ভাতা, বেতনসব উৎসব ভাতা, অসুস্থতাজনিত ভাতা ইত্যাদিও বাড়বে।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, চা-শ্রমিকদের পক্ষে কথা বলে মজুরি বাড়াবেন, সেটা উনি করেছেন। কাল থেকে চা-শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বলেছেন তিনি। শিগগিরই চা-শ্রমিকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী কথা বলবেন।’
এর আগে গত ৯ই অগাস্ট থেকে দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে চা বাগানগুলোর প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক। শ্রমিকেরা বলছেন, বর্তমানে মূল্যস্ফীতির যে অবস্থা তাতে দৈনিক ১৪৫টাকা মজুরি তাদের জন্য একেবারেই পর্যাপ্ত নয়। প্রথমদিকে প্রতিদিন দু’ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করলেও, ১৩ই অগাস্ট থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করেন।
পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন ও শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের চা শ্রমিক নেতাদের বৈঠকের পর ২৫ টাকা বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা দৈনিক মজুরি ঘোষণা করা হলে শ্রমিকদের একটি অংশ তাতে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও বেশিরভাগ শ্রমিক তাতে রাজি হননি।





