“নৌকার কাণ্ডারি সবাইকে ফেলে ভারতে , যা দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশের অভাব সৃষ্টি করেছে”
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের বিডি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি গণসংযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, হাসিনা নৌকার কাণ্ডারি হয়ে সবাইকে ফেলে ভারতে পালিয়ে গেছেন, যা দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশের অভাব সৃষ্টি করেছে। এই মন্তব্য আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোড়ন তুলেছে।
মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিফলন। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন, যা বিএনপির মতো বিরোধী দলগুলোর জন্য সমালোচনার হাতিয়ার হয়েছে। ফখরুল বলেন, “আগে নৌকা আর ধানের শীষ ছিল। এবার নৌকা নাই। নৌকার কাণ্ডারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা আপনাদের ফেলে ভারতে চলে গেছে। দিল্লিতে গিয়ে বসে আছে। আমাদেরকেও বিপদে ফেলে চলে গেছে। থাকলে অন্তত একটা গণতান্ত্রিক অবস্থা বিরাজ করতো।” এই কথায় তিনি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের দায়িত্বহীনতাকে তুলে ধরেন, যেন একটা পরিত্যক্ত জাহাজের ক্যাপ্টেনের মতো হাসিনা দলীয় কর্মীদের বিপদে রেখে পালিয়েছেন।
নির্বাচনি সভায় ফখরুল আরও বলেন, ১৫ বছর ধরে মত প্রকাশের সুযোগ ছিল না, এখন তা ফিরে এসেছে। তিনি আওয়ামী লীগের শাসনকালকে স্বৈরাচারী বলে অভিহিত করে বলেন, যারা ভোট দিতে চেয়েছে তাদের মামলা দিয়ে জেলে পুরেছে আওয়ামী লীগ। এখন বিএনপি ক্ষমতায় এলে চাকরির জন্য ঘুষ নেওয়া হবে না, সবকিছু মেধার ভিত্তিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “বিএনপি আমানতের খেয়ানত করে না।” এছাড়া, যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, তাদের ভোট দিয়ে দেশের সর্বনাশ করা যাবে না—এই প্রশ্ন তুলে তিনি আওয়ামী লীগকে লক্ষ্য করে সমালোচনা করেন।
এই সভা ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ। ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ২৩ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে, এবং এই সভায় তিনি স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে গণসংযোগ করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণ, যারা তার বক্তব্যে উৎসাহিত হয়েছেন।
পটভূমিতে, ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে উদ্ভূত হয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটায়। শেখ হাসিনা ভারতে চলে যাওয়ার পর দেশে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বিএনপি এখন নির্বাচনে জয়ী হয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, যখন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা পলাতক বা বিচারের মুখোমুখি। ফখরুলের মন্তব্য এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির প্রচারণাকে আরও জোরদার করেছে, কারণ এতে সাবেক সরকারের ব্যর্থতাকে তুলে ধরা হয়েছে। তবে, বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন সমালোচনা নির্বাচনি পরিবেশকে উত্তপ্ত করতে পারে, যদিও এটি ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াবে।





