নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য নরওয়ের অর্থমন্ত্রীকে ট্রাম্পের ফোন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নরওয়ের অর্থমন্ত্রী এবং ন্যাটোর সাবেক মহাসচিব ইয়েন্স স্টলটেনবার্গের কাছে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য সরাসরি আবেদন জানিয়েছেন। গত জুলাই মাসে শুল্ক নিয়ে আলোচনার সময় ট্রাম্প এই বিষয়টি উত্থাপন করেন বলে জানিয়েছে নরওয়েজিয়ান ব্যবসায়িক পত্রিকা ডাগেনস নায়েরিংস্লিভ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল, পাকিস্তান, কম্বোডিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ শান্তি চুক্তি বা যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতার জন্য ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছে। চারজন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পেয়েছেন, এবং ট্রাম্পও বিশ্বাস করেন যে তিনি এর যোগ্য। এর আগেও তিনি স্টলটেনবার্গের সঙ্গে এই পুরস্কার নিয়ে কথা বলেছেন।
পত্রিকাটি জানায়, হঠাৎ করেই, যখন স্টলটেনবার্গ ওসলোর রাস্তায় হাঁটছিলেন, তখন ট্রাম্প তাকে ফোন করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে পত্রিকাটি লিখেছে, “তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার চাইছিলেন এবং শুল্ক নিয়ে আলোচনা করছিলেন।”
রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্টলটেনবার্গ জানান, ফোনালাপটি শুল্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার জন্য ছিল, যা ট্রাম্পের নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোরের সঙ্গে কথোপকথনের প্রস্তুতির অংশ ছিল। তিনি বলেন, “আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে আমি আর বিস্তারিত বলব না।” ফোনালাপে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারসহ হোয়াইট হাউজের কয়েকজন কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন।
গত ৩১ জুলাই হোয়াইট হাউজ নরওয়ে থেকে আমদানির ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের শুল্কের সমান। স্টলটেনবার্গ জানান, এই শুল্ক ইস্যুতে নরওয়ে ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা এখনো চলমান।
নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য প্রতি বছর শত শত প্রার্থী মনোনীত হন। সুইডিশ শিল্পপতি আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছানুযায়ী, নরওয়ের পার্লামেন্ট কর্তৃক নিযুক্ত পাঁচ সদস্যের নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি বিজয়ী নির্বাচন করেন। পুরস্কার বিজয়ীর নাম অক্টোবরে ওসলোতে ঘোষণা করা হয়।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউজ এবং নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির কাছে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।





