জাতীয় ফিচার

নির্বাচনি ব্যয় না মানলে কড়া শাস্তি: ইসির কঠোর নির্দেশনা

নির্বাচন কমিশন (ইসি) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিপত্র জারি করেছে। এতে নির্বাচনি ব্যয়ের বিবরণী দাখিল, দাখিল না করার শাস্তি এবং নির্বাচনে সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ, ভীতি প্রদর্শন, বলপ্রয়োগ, অস্ত্র বা বিস্ফোরক ব্যবহার রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। পরিপত্রটি ইসি সচিবালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে এ বিষয়ে সচেতন থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮-এর বিধি ২৯ অনুসারে প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহের জন্য তহবিলের সম্ভাব্য উৎসের বিবরণী (ফরম-২০) এবং প্রার্থীর সম্পদ, দায়-দেনা ও বাৎসরিক আয়-ব্যয়ের বিবরণী (ফরম-২১) মনোনয়নপত্রের সাথে দাখিল করতে হবে। এছাড়া, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৪৪খ অনুসারে প্রত্যেক প্রার্থীকে একটি পৃথক তফসিলি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে, যার মাধ্যমে ব্যক্তিগত খরচ ব্যতীত সকল নির্বাচনি ব্যয় পরিশোধ করা যাবে। এটি না মানলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

নির্বাচনি ব্যয়ের রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে বিধি ৩০ অনুসারে ফরম-২২-এ হিসাব দাখিল করতে হবে। নির্বাচিত প্রার্থীর নাম গেজেটে প্রকাশিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে প্রার্থী বা তার নির্বাচনি এজেন্টকে এফিডেভিটসহ রিটার্ন রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে। এর সাথে ফরম ২২ক, ২২খ এবং ২২গ-এ হলফনামা দাখিল করা বাধ্যতামূলক। রিটার্নের অনুলিপি রেজিস্টার্ড ডাকযোগে ইসি সচিবালয়ে পাঠাতে হবে। এমনকি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রার্থী বা যাদের কোনো ব্যয় হয়নি, তাদেরও নির্ধারিত ফরমে এটি উল্লেখ করে দাখিল করতে হবে।

রিটার্নে উল্লেখ করতে হবে দৈনিক ব্যয়ের বিবরণী, পরিশোধিত বিল-রসিদ-ভাউচার, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের জমা-উত্তোলনের প্রত্যয়িত বিবরণী, প্রার্থীর ব্যক্তিগত খরচ, বিতর্কিত ও অপরিশোধিত দাবীর বিবরণী এবং অর্থ প্রাপ্তির উৎসসমূহের প্রমাণসহ বিবরণী।

পরিপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৭৪ অনুচ্ছেদ অনুয়ায়ী ৪৪কক, ৪৪খ বা ৪৪গ-এর বিধান না মানলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে। রিটার্নিং অফিসারদের দায়িত্ব এ বিষয়ে সকলকে অবহিত করা এবং লঙ্ঘন হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে বা হাইকোর্টের আদেশের তিন মাসের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে, এবং এর জন্য ইসির পূর্বানুমতির প্রয়োজন নেই।

এছাড়া, নির্বাচনে সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ রোধে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসি আরও জানিয়েছে যে, প্রার্থীরা একসাথে তিনটির বেশি নির্বাচনী এলাকায় মনোনয়ন দাখিল করতে পারবেন না, অন্যথায় সব মনোনয়ন বাতিল হবে। সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের কার্ড পেতে অনলাইনে আবেদন করতে হবে, যা প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করবে। এসব নির্দেশনা মেনে চললে নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে বলে আশা করা যায়।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র