“নারীর অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা দিলে তারা সব পারবে”
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার মনে হয় না মেয়েদের সুযোগ দিলে পারবে না, এটা আমি মানতে রাজি না। মেয়েদের অর্থনৈতিক মুক্তি সবচেয়ে বড়। অর্থাৎ, নারীর অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা দিলে তারা সব পারবে।
আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও জয়িতা সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।
নারীদের সুযোগ দিতে গিয়ে প্রতিবন্ধকতায় পড়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। বলেন, সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছি এসপিতে নিয়োগ দিতে। আর যাকে প্রথম এসপি করেছিলাম সে ডাকাত ধরে চমক দেখিয়েছে।
তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়লাম এসপি (পুলিশ সুপার) নিয়োগ দিতে গিয়ে। একটাই কথা, মেয়েরা আবার এসপি হবে কি করে। আমি বলালাম পারবে না কেন? তখন মুন্সীগঞ্জে প্রথম এসপি নিয়োগ দিলাম। মুন্সীগঞ্জে চারদিকে নদী। অনবরত ডাকাতি হয়। আমি যাকে নিয়োগ দিলাম সে প্রথম যেয়েই এক ডাকাত ধরে ফেললো। এক নৌকা থেকে আরেক নৌকায় এক হাতে রিভালভার, আরেক হাতে ডাকাতকে থাবা দিয়ে ধরছে। যাক আমি খুশি, মেয়েরা পারে।
ইতোমধ্যে আমরা অনেক পদক্ষেপ নিয়েছি। প্রশাসন থেকে শুরু করে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবহিনী কোথাও মেয়েদের সুযোগ ছিল না। আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর সেই সুযোগ করে দিয়েছি। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে নারীরা সবচেয়ে বেশি দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তারাই সুনাম বয়ে আনছেন বাংলাদেশের।
নারীদের বুদ্ধি এবং বিচক্ষণতার উদাহরণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তারা মায়ের কথা তুলে ধরেন আলোচনা সভায়। বলেন, আমার বাবা জেলে থাকার সময় তার কাজগুলো গোপানে আমার মা করতেন। কিন্তু গোয়েন্দা সংস্থাও আমার মাকে ধরতে পারেনি।
তিনি বলেন, আমার বাবা রাজনীতি করতেন। তিনি বেশিরভাগ সময়ই জেলে থাকতেন। এ সময় তার কাজগুলো গোপানে আমার মা করতেন। কিন্তু গোয়েন্দা সংস্থাও আমার মাকে ধরতে পারেনি। আমার মা যে নিজের পোশাক পরিবর্তন করে গোপনে ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে দেখা করা, পরামর্শ দেয়ার বিষয়টি ধরতে পারেনি। এতোটাই দক্ষ-বিচক্ষণ ছিলেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন: প্রধানমন্ত্রী





