নারী থেকে পুরুষ হয় যে মাছ
কবুডাই নামের এশিয়ান শিপসহেড র্যাশ মাছের বয়স ১০ বছর হলেই শরীরে নাটকীয় এক পরিবর্তন শুরু হয়। সে মিলনে অস্বীকৃতি জানায়। দেহে নারী হরমোনগুলো নিঃসরণ বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে পুরুষ হরমোন সঞ্চালন হতে শুরু করে। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তার মাথা এবং থুতনি ফুলে ওঠে। নারী মাছটি পরিণত হয় এক দাপুটে পুরুষে।
সম্প্রতি অন্য এক প্রজাতির দেখা মিলেছে মালদ্বীপে ভারতসাগরে। সমুদ্রের ৭০ থেকে ১৫০ মিটার গভীরে এই মাছের বাস। সমুদ্রের মাঝামাঝি জায়গায় থাকার কারণে স্কুবা ডাইভারদের নজর যেমন এড়িয়ে যায়, তেমনি সাবমেরিন দিয়েও এদের নাগাল পাওয়া যায় না। ফলে এতদিন আড়ালেই ছিল এই বিচিত্র প্রজাতির মাছটি।
মালদ্বীপ মেরিন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক ড. আহমেদ নাজিব এই মাছের এই বিচিত্র জীবনের তথ্য আবিষ্কার করেন।
নজরকারা এই ছোট্ট মাছটির শরীর উজ্জ্বল বেগুনি রঙের। মাথার অংশের রং উজ্জ্বল লাল। পাখনাতে রংধনুর মতো বিভিন্ন রঙের বাহার। মার্ভেলের কমিক চরিত্র ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’-এর নামানুসারে এই বিশেষ মাছের নাম রাখা হয়েছিল ‘ভাইব্রেনিয়াম ফেয়ারি রাসে’।
সদ্য-আবিষ্কৃত মৎস্যপ্রজাতিটির নামকরণ করা হয়েছে ‘রোস-ভেইল্ড ফেয়ারি রাসে’।
মালদ্বীপের জাতীয় ফুল ‘ফিনিফেনমা’। স্থানীয় ধিভেহি ভাষায় ‘ফিনিফেনমা’-র অর্থ হল গোলাপি গোলাপ বা পিঙ্ক রোস। এই ফুলের নামানুসারেই মাছটির নাম রাখা হয় ‘রোস-ভেইল্ড ফেয়ারি রাসে’।
তবে শুধু সৌন্দর্যের জন্যই নয় মাছটি গবেষকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে তার বৈচিত্র্যময় জীবনের জন্য।
জানা গেছে, জন্মের সময় এই মাছ থাকে নারী। নির্দিষ্ট বয়স পার হলেই এই মাছ পরিণত হয় পুরুষে। শারীরিক গঠন এবং হরমোনাল পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শরীর রংও বদলে যায় এদের। পরিবর্তন হয় আঁশ, এবং বাড়তে থাকে সংখ্যা।
আরও পড়ুনঃ মারা গেলেন বিশ্বের সবচেয়ে নোংরা মানুষ





