জাতীয় ফিচার

নতুন রাষ্ট্রপতি কে? আলোচনায় খন্দকার মোশাররফ ও নজরুল ইসলাম খানের নাম

নতুন রাষ্ট্রপতি কে? আলোচনায় খন্দকার মোশাররফ ও নজরুল ইসলাম খানের নাম

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন—তা নিয়ে এখনই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে একাধিক নাম ঘুরছে।

দলীয় সূত্র জানায়, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন-এর নাম জোরালোভাবে বিবেচনায় রয়েছে; পাশাপাশি আলোচনায় আছেন নজরুল ইসলাম খান-ও।

নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার আগেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে গুঞ্জন রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তবু দলীয় একাধিক সূত্র বলছে—অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক ভূমিকার বিবেচনায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে।

বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মতে, রাষ্ট্রপতি পদটি সাংবিধানিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। তাই এমন একজন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, যিনি দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম। এই প্রেক্ষাপটে খন্দকার মোশাররফ হোসেনের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া দ্রুত এগোবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দলীয় চেয়ারপারসন ও শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা হবে। নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় রয়েছে—বিশেষ করে তাঁর সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক ভারসাম্যের জন্য।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি নতুন সরকারের রাজনৈতিক বার্তারও প্রতিফলন। যদি দল অভিজ্ঞ ও তুলনামূলকভাবে সমঝোতাপূর্ণ ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়, তবে তা বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের কাছে ইতিবাচক বার্তা হতে পারে। অন্যদিকে দলীয় কঠোর অবস্থানের প্রতীক কেউ এলে রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়ার আশঙ্কাও থাকে।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ফলে সংসদে যে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে, তারাই কার্যত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্ধারক ভূমিকা রাখে। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ প্রক্রিয়া কত দ্রুত সম্পন্ন হবে, তা এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

তবে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা অনানুষ্ঠানিক আলোচনাকে ‘স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের ভাষ্য, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি; সময়মতো দল আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে।”

 

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র