জাতীয় ফিচার

দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ মহাযজ্ঞের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আজ শনিবার কক্সবাজারের মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেওয়া অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেই এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার।

শনিবার দুপুরে কক্সবাজারের পিএমখালীর ডুলাহাজারার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলে একটি গর্জন গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এই বিশাল কর্মযজ্ঞের শুভ সূচনা করেন। সাগর আর পাহাড়ঘেরা কক্সবাজারের প্রাকৃতিক পরিবেশে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাঁরা এবং উপস্থিত অন্যান্য মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা আরও ১১টি দেশীয় প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করে এই কর্মসূচির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন।

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম আকর্ষণীয় ও সময়োপযোগী প্রতিশ্রুতি ছিল—ক্ষমতায় এলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই নির্বাচনী ইশতেহারের এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করল সরকার। এর মাধ্যমে জনগণের প্রতি দেওয়া রাজনৈতিক অঙ্গীকার পূরণের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন হলো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গতানুগতিক রাজনৈতিক চর্চার বাইরে গিয়ে সরাসরি পরিবেশ ও প্রকৃতির উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের এমন সমন্বিত উদ্যোগ দেশের ইতিহাসে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

এই বৃহৎ ও চ্যালেঞ্জিং প্রকল্পটির সার্বিক বাস্তবায়ন এবং তদারকির দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ওপর। আগামী পাঁচ বছর ধরে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি পরিচালিত হবে। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, প্রথম ধাপে দেশের ৪৯টি জেলার মোট ১৪৯টি উপজেলায় দেড় কোটি চারা রোপণ করা হবে।

শুধু সরকারি খাসজমি বা বনাঞ্চলেই নয়, মহাসড়কের দুই পাশ, উপকূলীয় অঞ্চল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ এবং পতিত জমিতে এই গাছগুলো লাগানো হবে। পরবর্তীতে এই কার্যক্রম তৃণমূল ও গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়া হবে, যেখানে সাধারণ জনগণকে সরাসরি সম্পৃক্ত করার রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, অসময়ে বন্যা, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রার মতো চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষকে। এই সংকটময় প্রেক্ষাপটে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মেগা প্রকল্পটি শুধু একটি সরকারি কর্মসূচি নয়, বরং এটি দেশের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য এক অপরিহার্য ঢাল। কার্বন নিঃসরণ কমানো, বায়ুদূষণ রোধ এবং উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ তৈরিতে এই উদ্যোগ সুদূরপ্রসারী সুফল বয়ে আনবে।

সবুজ বিপ্লবের এই দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ২৫ কোটি গাছ কেবল দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করবে না, বরং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য, সতেজ ও সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।

তবে এই কর্মসূচির চূড়ান্ত সাফল্য নির্ভর করছে রোপণ করা চারাগুলোর সঠিক পরিচর্যা এবং রক্ষণাবেক্ষণের ওপর। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি নাগরিক যদি এই মহাযজ্ঞে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন, তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াল থাবা থেকে বাংলাদেশ নিজেকে অনেকাংশেই সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হবে।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র