‘দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করাই হবে আগামীর মূল অগ্নিপরীক্ষা’
বিপুল বিজয়ের পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাওয়া নতুন সরকারের সামনে পর্বতপ্রমাণ চ্যালেঞ্জ দেখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকা ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন—অর্থনীতি সচল করা, দুর্নীতি দমন এবং ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করাই হবে আগামীর মূল অগ্নিপরীক্ষা।
নিজের নির্বাচনি এলাকা ঠাকুরগাঁও থেকে একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ঢাকায় নামার পর বিমানবন্দরের টার্মিনালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ। তার চেহারায় বিজয়ের তৃপ্তি থাকলেও কথায় ছিল গভীর দায়বদ্ধতা ও সতর্কবাণী। তিনি বলেন, “জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে যে আস্থা দেখিয়েছে, তার প্রতিদান দেওয়া সহজ কাজ নয়। গত দেড় দশকের জঞ্জাল পরিষ্কার করা এক বিশাল কর্মযজ্ঞ।”
ফখরুল স্পষ্ট করেন যে, আগের সরকারের রেখে যাওয়া ‘উত্তরাধিকার’ হিসেবে অর্থনীতি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য সাধারণ মানুষের জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে। তাই ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় এই বিষয়গুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।
তিন স্তরের চ্যালেঞ্জ: বিশ্লেষণী দৃষ্টি
মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যে তিনটি প্রধান ক্ষেত্রকে আগামীর সরকারের জন্য ‘লিটমাস টেস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
১. অর্থনীতির চাকা সচল করা:
মহাসচিবের মতে, ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলা দূর করা এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা না গেলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব। তিনি বলেন, “মানুষের পেটে ক্ষুধার জ্বালা থাকলে গণতন্ত্র সুসংহত হয় না। আমাদের প্রথম কাজ হবে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালে আনা।”
২. লাগামহীন দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ:
দুর্নীতিকে ক্যানসারের সঙ্গে তুলনা করে তিনি উল্লেখ করেন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি সমাজকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খাচ্ছে। সরকারি সেবা খাত থেকে শুরু করে মেগা প্রজেক্ট—সবখানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হবে বড় লড়াই।
৩. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা:
দীর্ঘদিনের বিচারহীনতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবে ভেঙে পড়া পুলিশ ও প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে নতুন প্রশাসনের অগ্রাধিকার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য আসলে আগামীর সরকারের একটি অনানুষ্ঠানিক ‘রোডম্যাপ’। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার পর দেশ পরিচালনায় বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হবে আমলাতন্ত্রের সমন্বয় এবং জনগণের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা। ফখরুল নিজেও তা অনুধাবন করছেন বলেই বিজয়ের উন্মাদনার চেয়ে দায়িত্বের কাঠিন্যকেই বেশি সামনে আনছেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমরা একটি ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রা শুরু করছি। জাদুর কাঠিতে রাতারাতি সব বদলে যাবে না, তবে আমাদের সদিচ্ছা এবং জনগণের সহযোগিতা থাকলে এই চ্যালেঞ্জ জয় করা অসম্ভব নয়।”





