জাতীয় ফিচার

দক্ষিণ এশীয় নেতাদের সংহতিতে অভিভূত প্রধান উপদেষ্টা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের দৃঢ় উপস্থিতি ও সংহতি দেখে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “সার্কের চেতনা এখনো জীবিত ও দৃঢ়।” তিনি গভীরভাবে অভিভূত হয়েছেন বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং বিশ্বের দ্বিতীয় মুসলিম নারী সরকারপ্রধানের প্রতি সার্কভুক্ত দেশগুলোর এই সম্মান প্রদর্শনে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেওয়া দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর শীর্ষ প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এর মধ্যে ছিলেন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র, কর্মসংস্থান ও পর্যটনমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ এবং মালদ্বীপের উচ্চশিক্ষা, শ্রম ও দক্ষতা উন্নয়নমন্ত্রী ড. আলী হায়দার আহমেদ।

সফররত এই বিশিষ্টজনরা প্রয়াত খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তার আজীবন সংগ্রাম ও দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য-সহযোগিতা বৃদ্ধিতে তার অবদানের কথা স্মরণ করেন। তারা জানাজায় রেকর্ডসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখে অভিভূত হয়ে বলেন, এতে বোঝা যায় জনগণ তাকে কতটা ভালোবাসতেন।

সব বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কো-অপারেশন (সার্ক) পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। মালদ্বীপের মন্ত্রী আলী হায়দারের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, “জানাজায় আমরা প্রকৃত সার্কের চেতনা দেখেছি। সার্ক এখনো বেঁচে আছে।” শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথকে তিনি বলেন, “গতকাল সার্ক সক্রিয় ছিল। আমরা একসাথে দুঃখ ভাগ করে নিয়েছি।”

প্রধান উপদেষ্টা নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে সার্ক নেতাদের অনানুষ্ঠানিক সমাবেশ আয়োজনের তার প্রচেষ্টার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “আমি সার্ক নেতাদের মধ্যে একটি মিলনমেলা আয়োজন করতে চেয়েছিলাম, এমনকি পাঁচ মিনিটের জন্য হলেও।” দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় দুই বিলিয়ন মানুষের জন্য সার্ককে অর্থবহ প্ল্যাটফর্মে পরিণত করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকগুলোতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নির্বাচনের পর তিনি তার পূর্বের পেশাগত ভূমিকায় ফিরে যাবেন বলে পাকিস্তানের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিককে জানান। শ্রীলঙ্কা ও নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বাংলাদেশের প্রবাসীদের জন্য প্রথমবারের মতো চালু হওয়া ডাকযোগে ভোটদান ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানান। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এ ব্যবস্থা চালুর পর প্রায় সাত লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন করেছেন।

খালেদা জিয়ার জানাজায় ভারত-পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সৌজন্যমূলক শুভেচ্ছা বিনিময়ও সার্কের চেতনার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সংহতি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র