ডিসেম্বরে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা; সরকারের পরিকল্পনায় অংশীজনদের ‘না’
২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা চলতি বছরের ডিসেম্বরে এগিয়ে আনার সরকারি পরিকল্পনায় বাদ সেধেছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা। বুধবার (১৩ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় শিক্ষক, অভিভাবক ও বিশেষজ্ঞরা এই সময়ে পরীক্ষা না নেওয়ার পক্ষে জোরালো মত দিয়েছেন। ফলে পরীক্ষার সময়সূচী নিয়ে নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে এক উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল ২০২৭ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচী নির্ধারণ। সরকার চাচ্ছে সেশনজট নিরসনে এবং শিক্ষাবর্ষকে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরাতে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই বড় এই দুই পরীক্ষা শেষ করতে।
তবে সরকারের এই তোড়জোড়কে ‘অবাস্তব’ ও ‘শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ’ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হওয়া দেশের বিভিন্ন জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান এবং অভিভাবক প্রতিনিধিরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ডিসেম্বরে পরীক্ষা নিলে সিলেবাস শেষ করা এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেটের ধীরগতি এবং শিক্ষা উপকরণের অভাবে পিছিয়ে থাকায় তারা এই আগাম সূচীর চরম বিরোধী।
সভায় উপস্থিত থাকা শিক্ষাবিদদের মতে, একটি পাবলিক পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত রিভিশন এবং মডেল টেস্টের প্রয়োজন হয়। ডিসেম্বরে পরীক্ষা নিতে হলে অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচনী পরীক্ষা শেষ করতে হবে, যা বর্তমান একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী প্রায় অসম্ভব।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সভায় উপস্থিত সবার যুক্তি ধৈর্য সহকারে শোনেন। তিনি জানান, সরকার শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের সময় বাঁচাতে বদ্ধপরিকর। তবে কোনো সিদ্ধান্তই শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সভায় আসা নেতিবাচক ও ইতিবাচক সব মতামতই গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হবে এবং খুব দ্রুতই একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে মন্ত্রণালয়।





