ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কি আখের রস নিরাপদ?
গ্রীষ্মকালে নিজেদের সতেজতা এবং শক্তি দেওয়ার জন্য, মানুষ আখের রস পান করতে পছন্দ করে। এই রস শরীরকে ঠান্ডা করে এবং তীব্র রোদের কারণে পানিশূন্যতার ঝুঁকিও কমায়। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কি এই রস পান করা নিরাপদ?
আখের রসে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি (সুক্রোজ) থাকে, যাতে উচ্চ পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট থাকে। ১০০ মিলি আখের রসে প্রায় ১৩-১৫ গ্রাম চিনি থাকতে পারে। এতে ফাইবার থাকে না কারণ রস বের করার সময় ফাইবার আলাদা হয়ে যায়। এছাড়াও, এতে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ পদার্থও কিছু পরিমাণে পাওয়া যায় , তবে চিনির পরিমাণ বেশি থাকার কারণে এটি ডায়াবেটিক্স রোগীদের জন্য উপকারী বলে বিবেচিত হয় না।
আখের রসের গ্লাইসেমিক সূচক (GI) প্রায় ৪৫-৬৫ এর মধ্যে থাকে, যা মাঝারি থেকে উচ্চ পরিসরে পড়ে। তবে এতে ফাইবার থাকে না। অতএব, এই চিনি দ্রুত রক্তে শোষিত হয় এবং হঠাৎ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে, কারণ তাদের শরীর সঠিকভাবে ইনসুলিন ব্যবহার করতে পারে না।
সাধারণভাবে, ডায়াবেটিস রোগীদের আখের রস এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এটি তাদের রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে, যদি কোনও রোগীর চিনির মাত্রা ভালোভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকে এবং তিনি মাঝে মাঝে অল্প পরিমাণে আখের রস পান করতে চান, তাহলে তিনি ডাক্তার বা ডায়েটিশিয়ানদের সাথে পরামর্শ করে তা করতে পারেন। কিছু জিনিস মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ-
খুব কম পরিমাণে পান করুন – অর্ধেক গ্লাসের বেশি নয়।
খালি পেটে পান করবেন না – চিনির শোষণ ধীর করার জন্য খাওয়ার পরে অল্প পরিমাণে পান করুন।
ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খান: যদি আপনি জুস পান করেন, তাহলে এর সাথে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার (যেমন সালাদ বা বাদাম) খান ।





