জাতীয় ফিচার

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের দায়মুক্তি: উপদেষ্টা পরিষদের ঐতিহাসিক অধ্যাদেশ অনুমোদন!

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সংগঠিত রাজনৈতিক প্রতিরোধের কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকারীদের ফৌজদারি দায় থেকে মুক্তি দিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ-২০২৬’ অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। এই অধ্যাদেশ আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে আইনে পরিণত হবে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদের আলোকে এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে, যা বিপ্লবোত্তর সময়ে অন্যান্য দেশে দেখা গেছে এমন দায়মুক্তির আইনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানান আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আইন উপদেষ্টা বলেন, এই অধ্যাদেশ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে সংগঠিত কর্মকাণ্ডের জন্য কোনো অংশগ্রহণকারীকে ফৌজদারি মামলায় জড়ানো যাবে না। ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে পরিচালিত কর্মকাণ্ডের কারণে দায়ের হওয়া মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হবে, এবং নতুন করে কোনো মামলা করা যাবে না। তবে ব্যক্তিগত লোভ, প্রতিশোধ বা সংকীর্ণ স্বার্থে সংঘটিত হত্যা বা সহিংসতা এই দায়মুক্তির আওতায় পড়বে না। পুলিশ হত্যাসহ যেকোনো সহিংস ঘটনা যদি রাজনৈতিক প্রতিরোধের সঙ্গে সম্পর্কহীন হয়, তাহলে তা এই অধ্যাদেশের সুরক্ষা পাবে না।

কোনো হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ কি না, তা নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে। ভুক্তভোগী পরিবার যদি মনে করে তাদের স্বজনের হত্যা ব্যক্তিগত কারণে হয়েছে এবং এর সঙ্গে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের কোনো যোগ নেই, তাহলে তারা কমিশনে আবেদন করতে পারবেন। কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের মতোই গ্রাহ্য হবে। এছাড়া, কোনো ঘটনা রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ হলেও ভুক্তভোগী পরিবার যদি আর্থিক ক্ষতিপূরণের যোগ্য হয়, তাহলে কমিশন সরকারকে সুপারিশ করতে পারবে। আইন উপদেষ্টা জানান, আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে নতুন কমিশন গঠন করা হবে, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ও কার্যকর হবে। এর নির্বাচন কমিটির প্রথম বৈঠক ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে, এবং শিগগিরই পাবলিক নোটিশ প্রকাশ করা হবে।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র