গাজায় গণহত্যা ও ক্ষুধার অস্ত্রীকরণ বন্ধের আহ্বান: ডব্লিউএইচও প্রধানের আবেগঘন বক্তব্য
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুস গাজায় চলমান গণহত্যা এবং ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে ইসরাইলের প্রতি ‘দয়া’ দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই যুদ্ধ শুধু গাজার জনগণেরই নয়, ইসরাইলের নিজের স্বার্থেও ক্ষতিকর। বৃহস্পতিবার (২২ মে) ডব্লিউএইচও’র বার্ষিক সম্মেলনে আবেগঘন বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
গেব্রেয়াসুস বলেন, “গাজায় যা ঘটছে তা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। ক্ষুধা ও ধ্বংসের এই চক্র ইসরাইলের জন্যও কোনো স্থায়ী সমাধান আনবে না। শান্তি প্রতিষ্ঠাই একমাত্র পথ।” তিনি কান্না চেপে রেখে গাজার শিশু ও বেসামরিক নাগরিকদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।
ডব্লিউএইচও’র তথ্য অনুযায়ী, গাজায় চলমান সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সুবিধার তীব্র সংকটে জনগণ মানবেতর জীবনযাপন করছে। গেব্রেয়াসুস জোর দিয়ে বলেন, “ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এটি বন্ধ করতে হবে।”
এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক বলেন, “গেব্রেয়াসুসের এই বক্তব্য গাজার মানবিক সংকটের গভীরতা তুলে ধরেছে। ইসরাইলের উপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
গাজার সংঘাত নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গেব্রেয়াসুসের বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, এবং অনেকে তার এই আবেগঘন আহ্বানকে মানবতার পক্ষে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখছেন। তবে, ইসরাইলের পক্ষ থেকে এই বক্তব্যের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।





