‘ইসলামি দলগুলো ঐক্যবদ্ধ জোট গঠনের পথে এগিয়ে চলেছে’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম ঘোষণা করেছেন, ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলো আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি ঐক্যবদ্ধ জোট গঠনের পথে এগিয়ে চলেছে। দেশপ্রেমিক ও মানবতাবাদী শক্তিগুলো একই প্ল্যাটফর্মে এসে ‘এক বাক্সে’ ভোট দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার সময় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি জানান, “৫ আগস্টের পর আমরা ইসলামি দলগুলোর ঐক্যের বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, এখন আমরা এই লক্ষ্যের অনেক কাছাকাছি। আল্লাহর রহমতে এমন একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।”
মুফতি রেজাউল করীম আরও বলেন, যুগপৎ আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং এটি দেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলোর একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা।
তিনি জানান, “জুলাইয়ের রক্তের প্রতি দায়বোধ থেকে আমরা বিভিন্ন ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করেছি। সবদিক বিবেচনা করে আমরা সুনির্দিষ্ট দাবি নিয়ে রাজনৈতিকভাবে মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই দাবিগুলো নিয়ে আমরা যৌথভাবে কর্মসূচি পালন করব এবং একটি শক্তিশালী যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তুলব।”
জুলাই সনদ ও সংস্কার বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, “অতীতে, যেমন ৯০ সালে, আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের যৌথ সংস্কার প্রতিশ্রুতি দেখেছি। নির্বাচনের আগে দলগুলো সুন্দর সুন্দর ইশতেহার দেয়, কিন্তু আইনি ভিত্তি না থাকায় নির্বাচনের পর সেগুলো বাস্তবায়ন হয় না। জুলাই সনদ ও সংস্কার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করা জরুরি।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের সার্বভৌম ক্ষমতার বলে জুলাই সনদকে এখনই বাস্তবায়ন করতে হবে। এটি সাংবিধানিক আদেশ বা গণভোটের মাধ্যমে আইনসম্মত করা প্রয়োজন, যাতে জাতীয় নির্বাচন এই ভিত্তিতে আয়োজিত হয়। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা আর নির্বাচনের পরে সংস্কারের অপেক্ষায় থাকতে পারি না।”
তিনি আরও জানান, এই যুগপৎ আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের জন্য একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হবে। ইসলামি দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।





