ইরানের পারমাণবিক ইস্যুতে দ্বৈত কৌশলে ওয়াশিংটন, পাল্টা প্রস্তাবের ইঙ্গিত তেহরানের
তেহরানের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একদিকে আলোচনা চালালেও অন্যদিকে সামরিক হামলার হুমকি দিচ্ছে ওয়াশিংটন। এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল MS Now-কে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই একটি পাল্টা খসড়া প্রস্তাব তৈরি করবে তেহরান।
সাক্ষাৎকারে আরাঘচি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইরান কূটনৈতিক পথেই সমাধান চায়, তবে ‘চাপ ও হুমকি’কে সমাধানের উপায় হিসেবে দেখছে না। তার ভাষায়, “আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমরা একটি পাল্টা খসড়া প্রস্তাব তৈরি করব, যা আমাদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা পর্যালোচনা করবেন।” আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা Reuters এ তথ্য জানিয়েছে।
দ্বিমুখী বার্তা, বাড়ছে সংশয়
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের এই দ্বৈত কৌশল—একদিকে আলোচনার প্রস্তাব, অন্যদিকে সামরিক হুঁশিয়ারি—মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। Iran দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং জ্বালানি ও চিকিৎসা গবেষণার জন্য পরিচালিত। তবে United States-সহ পশ্চিমা শক্তিগুলোর আশঙ্কা, এই কর্মসূচির আড়ালে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে।
২০১৫ সালের ঐতিহাসিক চুক্তির পর কিছুটা স্বস্তি এলেও পরবর্তী সময়ে চুক্তি ভেঙে পড়ায় পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই পটভূমিতেই সাম্প্রতিক আলোচনা নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে হামলার হুমকি কূটনৈতিক পরিবেশকে নাজুক করে তুলছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
তেহরানের অবস্থান কী?
আরাঘচি সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দেন, ইরান কোনো ‘একতরফা চাপের’ কাছে নতি স্বীকার করবে না। তিনি বলেন, আলোচনা হতে পারে কেবল পারস্পরিক সম্মান ও সমান অবস্থানের ভিত্তিতে। তার বক্তব্যে স্পষ্ট—তেহরান একটি কাঠামোবদ্ধ ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব প্রস্তুত করছে, যাতে তাদের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের পাল্টা খসড়া প্রস্তাবটি সম্ভবত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আন্তর্জাতিক পরিদর্শন ব্যবস্থার শর্ত এবং পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণের সীমা—এসব বিষয়কে ঘিরেই সাজানো হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে ইরান ইস্যুটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।
ভবিষ্যৎ কোন পথে?
কূটনীতির টেবিলে সমাধান নাকি সামরিক উত্তেজনা—এই প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কেন্দ্রবিন্দুতে। তেহরানের পাল্টা প্রস্তাব কতটা বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য হয়, তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে পরিস্থিতির গতিপথ।





