আধুনিক দাসত্বের শৃঙ্খলে বন্দী বিশ্বের পাঁচ কোটি মানুষ
জাতিসংঘের প্রকাশ করা নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে আধুনিক দাসত্বের শৃঙ্খলে বন্দী মানুষের সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি। এসব মানুষকে দিয়ে হয় জোর করে কাজ করিয়ে নেওয়া হচ্ছে অথবা জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশ্বে প্রতি দেড় শ মানুষের মধ্যে প্রায় একজন দাসত্বের আধুনিক শৃঙ্খলে বন্দী হয়ে জীবন যাপন করছেন।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২১ সালে বিশ্বে বাধ্যতামূলক শ্রম ও জোরপূর্বক বিয়ের শিকার মানুষের সংখ্যা বেড়েছে এক কোটি।
জাতিসংঘের শ্রমবিষয়ক সংস্থা আইএলও, অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা আইওএম ও অস্ট্রেলিয়ার দাতব্য সংস্থা ওয়াক ফ্রি ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ গবেষণা করেছে। তাতে দেখা গেছে, গত বছরের শেষ দিকে বিশ্বের ২ কোটি ৮০ লাখ লোক বাধ্যতামূলক শ্রম দিচ্ছেন আর জোরপূর্বক বিয়ের পর সংসার করছেন ২ কোটি ২২ লাখ।
আরও পড়ুনঃ ইউক্রেনে পুতিনের অভিযান ব্যর্থ: সিআইএ প্রধান
গবেষণার অংশীদার আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রধান গাই রাইডার এক বিবৃতিতে বলেছেন, এটা অত্যন্ত মর্মান্তিক বিষয় যে আধুনিক দাসত্বের পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। মানুষের এই মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি এখনো ঘটে চলছে। কোনো ধরনের কোনো যুক্তি দিয়েই এর বৈধতা দেওয়া যেতে পারে না।
এসব ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নারী ও শিশুরা। বাধ্যতামূলক শ্রমের শিকার প্রতি পাঁচজনের একজনই শিশু। এর মধ্যে অর্ধেক বাণিজ্যিকভাবে যৌন নিপীড়নের শিকার। এতে বলা হয়, অভিবাসী শ্রমিকেরা অ-অভিবাসী প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিকদের তুলনায় জোরপূর্বক শ্রমের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে তিন গুণ বেশি।
আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থার (আইওএম) প্রধান আন্তোনিও ভিতোরিনো এক বিবৃতিতে বলেছেন, নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ও নিরাপদ অভিবাসনের বিষয়টির গুরুত্ব উঠে এসেছে এ প্রতিবেদনে।
২০৩০ সালের মধ্যে আধুনিক দাসত্ব দূর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে জাতিসংঘ। কিন্তু জাতিসংঘের এ লক্ষ্য তো অর্জিত হয়নি, উল্টো বেড়েছে।





