অপরাধ দেশ সংযোগ ফিচার

আদালতে ছাগলকাণ্ডের মতিউরের কান্না, মেলেনি জামিন

ছাগলকাণ্ডে আলোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের জামিন আবেদন নাকচ করেছে আদালত।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট ২০২৫) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেন গালিবের আদালতে শুনানির সময় মতিউর কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি পরিবারের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে জামিনের আকুতি জানান। কিন্তু আদালত তাকে ধৈর্য ধরতে বলে জামিন নামঞ্জুর করেন।

গত বছরের কোরবানি ঈদের আগে মতিউরের ছেলে মুশফিকুর রহমান ইফাত ১৫ লাখ টাকায় একটি ছাগল কিনতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হন। এ ঘটনার পর মতিউর ও তার পরিবারের বিপুল সম্পদের তথ্য প্রকাশ পায়, যা ‘ছাগলকাণ্ড’ নামে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এর জেরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করে এবং মতিউর ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করে।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে আদালতকক্ষে মতিউরকে দেখা যায় ভিন্ন রূপে। লম্বা দাড়ি আর মাস্কে মুখ ঢেকে তিনি আসামির কাঠগড়ায় বসেছিলেন। তার পাশে ছিলেন তার প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজ। দুজন মৃদু স্বরে কথা বলছিলেন। ২৩ মিনিট পর তাদের দুর্নীতির মামলার শুনানি শুরু হয়।

মতিউরের আইনজীবী ওয়াহিদুজ্জামান আদালতের কাছে জামিনের আবেদন করেন।

তিনি বলেন, “মাননীয় আদালত, আমার মক্কেল মতিউর ও তার স্ত্রী কয়েক মাস ধরে কারাগারে আছেন। তারা ষড়যন্ত্রের শিকার। জামিন পেলে তারা পলাতক হবেন না।” এরপর মতিউর নিজে কথা বলার অনুমতি চান।

আদালতের অনুমতি পেয়ে তিনি বলেন, “আমি কারাগার থেকে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছি। তাতে জানিয়েছি, কীভাবে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।” তিনি চিঠিটি আদালতে জমা দেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মতিউর আরও বলেন, “কাস্টমস কর্মকর্তা থাকাকালে একজন সামরিক কর্মকর্তার রোষানলে পড়ি। তার কর্মকাণ্ড নিয়ে সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে খবর প্রকাশিত হয়েছে। আমাকে যেদিন গ্রেপ্তার করা হয়, সেদিন আমার পিতা মারা যান। পরে আমার মা স্ট্রোক করেন। আমার সংসার তছনছ হয়ে গেছে।”

তিনি দুই হাত জোড় করে বলেন, “দুদককে দেওয়া চিঠিটি পড়ে যে আদেশ দেবেন, আমি তা মেনে নেব। আমাকে জামিন দিন, আমি নথিপত্র দিয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করব।”

আদালত তখন বলেন, “আপনি আপনার বক্তব্য বলছেন, দুদকেরও নিশ্চয় বক্তব্য আছে। আপনার বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। দুদক সেগুলো তদন্ত করছে। সত্য জানতে সময় লাগবে। আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে।”

বিচারক আরও বলেন, “আপনার বিরুদ্ধে ৫৩ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ রয়েছে। দুদকের জালে এখন হাজার মতিউর।”

শুনানি শেষে আদালত মতিউর ও তার স্ত্রী লায়লা কানিজের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। লায়লাকে মহানগর আদালতের মহিলা হাজতখানায় এবং মতিউরকে পুরুষ হাজতখানায় নেওয়া হয়। মতিউর বর্তমানে কিশোরগঞ্জ কারাগারে এবং লায়লা কাশিমপুর মহিলা কারাগারে রয়েছেন। শুনানির দিন ছাড়া তারা শুধু আদালতকক্ষেই একে অপরের সঙ্গে দেখা করেন।

দুদকের তদন্তে মতিউর ও তার পরিবারের নামে ৬৫ বিঘা জমি, আটটি ফ্ল্যাট, দুটি রিসোর্ট, পিকনিক স্পট এবং তিনটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ফোনে আর্থিক সেবার হিসাব এবং শেয়ারবাজারের বিও হিসাব জব্দ করা হয়েছে।

গত বছরের ২৪ জুন মতিউর ও তার প্রথম স্ত্রী এবং সন্তানদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। মতিউরের দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মী আখতার শিবলী এবং তার ছেলে মুশফিকুর বিদেশে পলাতক রয়েছেন।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
ফিচার ব্যবসা-বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সর্বশেষ কার্যদিবসে আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার