আকাশসীমা বন্ধ, ফ্লাইট বাতিল: যাত্রী হিসেবে আপনার অধিকার জেনে নিন
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার জেরে একাধিক দেশের আকাশসীমা আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল ও দীর্ঘ বিলম্বে বিপাকে পড়েছেন হাজারো যাত্রী, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশিও রয়েছেন।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হওয়ায় কয়েকটি এয়ারলাইন বিকল্প রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে, আবার কিছু ফ্লাইট পুরোপুরি বাতিল করছে। বিশেষ করে ইরান, ইসরায়েল ও পার্শ্ববর্তী আকাশসীমা এড়িয়ে চলতে গিয়ে ইউরোপ-এশিয়া রুটের অনেক ফ্লাইটে অতিরিক্ত সময় লাগছে। ফলে ট্রানজিট নির্ভর যাত্রীরা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।
ঢাকা থেকে ইউরোপ, কানাডা বা যুক্তরাষ্ট্রগামী বহু যাত্রী সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের হাব—দোহা, দুবাই বা আবুধাবি—ব্যবহার করেন। এখন আকাশপথে পরিবর্তন, রুট ডাইভারশন এবং নিরাপত্তা সতর্কতার কারণে ট্রানজিটে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কেউ কেউ হঠাৎ করে জানতে পারছেন, তাঁদের সংযোগ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা না হওয়ায় বিমানবন্দরেই রাত কাটাতে হচ্ছে অনেককে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী যাত্রীদের কিছু মৌলিক অধিকার রয়েছে। তবে সেটি নির্ভর করে ফ্লাইট কোন দেশের এয়ারলাইনের, কোন দেশের আইন প্রযোজ্য, এবং বাতিলের কারণ ‘ফোর্স মেজর’ হিসেবে বিবেচিত কি না—এসব বিষয়ের ওপর।
যাত্রী হিসেবে আপনার কী অধিকার?
- রিফান্ড বা রি-রাউটিং: ফ্লাইট বাতিল হলে এয়ারলাইনকে পূর্ণ অর্থ ফেরত বা বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা দিতে হবে।
- খাবার ও আবাসনের সুবিধা: দীর্ঘ বিলম্বের ক্ষেত্রে এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষকে খাবার, পানীয় এবং প্রয়োজন হলে হোটেল ব্যবস্থা দিতে হয়।
- তথ্য পাওয়ার অধিকার: বিলম্ব বা বাতিলের কারণ সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য জানানো বাধ্যতামূলক।
- ট্রানজিট ভিসা জটিলতা: ট্রানজিটে আটকে পড়লে স্থানীয় ইমিগ্রেশন নীতির আওতায় বিশেষ সহায়তা চাওয়া যায়।
তবে ‘নিরাপত্তাজনিত জরুরি পরিস্থিতি’ বা যুদ্ধাবস্থার মতো ঘটনায় ক্ষতিপূরণের বিষয়টি জটিল হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে এয়ারলাইন ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য নয়, কারণ পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কিন্তু তবুও যাত্রীকে বিকল্প যাত্রা বা অর্থ ফেরতের সুযোগ দিতে হয়।
বাংলাদেশি প্রবাসী ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ জানিয়েছেন, সময়মতো তথ্য না পাওয়ায় তাঁরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন, হঠাৎ বাতিলের কারণে ভিসার মেয়াদ, সংযোগ ফ্লাইট কিংবা অফিসে যোগদানের সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এভিয়েশন বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য বৈশ্বিক বিমান চলাচলের একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডর। ইউরোপ-এশিয়া-আফ্রিকার সংযোগে এই অঞ্চলের আকাশপথ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সামান্য উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সূচিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
এ পরিস্থিতিতে যাত্রীদের জন্য পরামর্শ হচ্ছে—ভ্রমণের আগে এয়ারলাইনের ওয়েবসাইট ও ই-মেইল নিয়মিত পরীক্ষা করা, ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স সক্রিয় রাখা এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা। বিশেষ করে দীর্ঘ ট্রানজিট থাকলে ভিসা ও ইমিগ্রেশন নিয়ম আগে থেকে জেনে নেওয়া জরুরি।





