জুলাই হত্যা মামলায় ৩ দিনের রিমান্ডে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা মারুফ
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর মিরপুরে কামরুল ইসলামকে হত্যার অভিযোগে করা বহুল আলোচিত মামলায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মারুফ হোসেন মিঠুকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। শনিবার তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে তদন্তকারী কর্মকর্তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিন এই আদেশ দেন।
মামলার মূল বিষয়বস্তু একনজরে:
-
কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালীন ১৯ জুলাই মিরপুর ১০ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে হামলা চালানো হয়।
-
মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছাত্রলীগ নেতা মারুফ হোসেন মিঠুর বিরুদ্ধে রামদা ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
-
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন মারা যান ভুক্তভোগী কামরুল ইসলাম।
-
পরবর্তীতে ওই বছরের ২২ নভেম্বর মিরপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
আন্দোলন দমন ও পৈশাচিক হামলা
ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সশস্ত্র হামলা আজও মানুষের মনে গভীর ক্ষত হয়ে আছে। মিরপুরের এই ঘটনায় আন্দোলনরত নিরপরাধ মানুষের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছিল। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, অত্যন্ত নির্মমভাবে রামদা ও দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি পিস্তল দিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয় কামরুল ইসলামকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ধরনের নৃশংসতা প্রমাণ করে যে কীভাবে ছাত্র আন্দোলনের কণ্ঠরোধ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল তৎকালীন দোসররা।
আইনি প্রক্রিয়া ও রিমান্ড মঞ্জুর
দীর্ঘ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এবার আইনের আওতায় আনা হলো অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা মারুফ হোসেন মিঠুকে। যিনি রূপনগর থানা ছাত্রলীগেরও সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পুলিশ ও তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা সরাসরি নির্দেশদাতা ছিল এবং অস্ত্র সরবরাহের উৎস কোথায়, তা উদঘাটন করতে তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। আদালত সব দিক বিবেচনা করে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন, যা থেকে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন গতি আসার আশা করা হচ্ছে।





