জাতীয় দেশ সংযোগ ফিচার রাজনীতি শীর্ষ এক

হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া জানাল ভারত, কবে ফিরবেন জানে না দিল্লি

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতের বক্তব্য

হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে ভারতের অবস্থান আবারও স্পষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ বর্তমানে একটি আইনি ও সুসংগঠিত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছে দিল্লি। তবে তাকে ঠিক কবে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে পারছে না ভারত। বিষয়টিতে আদালতের সম্পৃক্ততার কথাও জানানো হয়েছে।

একনজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বাংলাদেশের অনুরোধ আইনি প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারত।
  • ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, বিষয়টির সঙ্গে আদালত জড়িত।
  • শেখ হাসিনাকে কবে ফেরানো হবে, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা দেয়নি ভারত।
  • বাংলাদেশ দ্রুত প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছার কথাও বলেছে।

হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে ভারতের বক্তব্য

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়টি গত কয়েক মাস ধরে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের অন্যতম আলোচিত ইস্যু। বাংলাদেশ একাধিকবার তাকে ফেরত দেওয়ার জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। এরই মধ্যে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুরোধটি প্রচলিত আইনি কাঠামোর মধ্যেই পরীক্ষা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সম্প্রতি বলেছেন, বিষয়টি একটি ‘আইনি ও সুসংগঠিত’ প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এতে আদালতের সম্পৃক্ততা থাকায় এখনই কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।

অর্থাৎ, ভারতের বক্তব্যে প্রক্রিয়া বন্ধ থাকার কোনো ইঙ্গিত নেই। বরং প্রত্যর্পণের আবেদন আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে—এটাই দিল্লির বর্তমান অবস্থান।

কেন নির্দিষ্ট সময়সীমা দিচ্ছে না ভারত

প্রত্যর্পণ কোনো সাধারণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়। একটি দেশ অন্য দেশের কাছে কোনো ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ করলে তা সংশ্লিষ্ট আইন, চুক্তি এবং প্রয়োজনীয় বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে পারে। শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও ভারত একই ধরনের আইনি কাঠামোর কথা বলছে।

দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্য অনুযায়ী, যেহেতু বিষয়টির সঙ্গে আদালত জড়িত, তাই কখন পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে তা আগাম বলা সম্ভব নয়। তিনি স্পষ্ট করেছেন, শেখ হাসিনার ফেরার বিষয়ে কেউ নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে পারবেন না।

এতে বোঝা যায়, বাংলাদেশের অনুরোধ নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে পর্যালোচনা চলছে, কিন্তু রাজনৈতিক বা প্রশাসনিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট ফেরার তারিখ ঠিক হয়নি।

বাংলাদেশের অবস্থান কী

বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলা হয়েছে। সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগও চলছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, শেখ হাসিনাকে ফেরাতে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছাও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রত্যাশা, ভারত প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

বাংলাদেশের বক্তব্যে মূল গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দ্রুততার ওপর। অর্থাৎ, আইনি প্রক্রিয়া থাকলেও সেটি যেন অযথা দীর্ঘায়িত না হয়—এটাই ঢাকার প্রত্যাশা।

প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় আদালতের ভূমিকা

ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি শুধু দুই সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়ারও সম্পর্ক রয়েছে। ফলে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি দিকগুলো পরীক্ষা করতে হচ্ছে।

এর আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বলেছিল, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসংক্রান্ত যেকোনো অনুরোধকে আইনি বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, এ বিষয়ে ভারতের অবস্থানে পরিবর্তন আসেনি।

এ কারণে শুধু কূটনৈতিক আলোচনা হলেই দ্রুত প্রত্যর্পণ সম্পন্ন হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। আইনি প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ শেষ হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে এর প্রভাব

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নটি এখন শুধু একটি ব্যক্তিকে ফেরানোর বিষয় নয়। এর সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিকও জড়িয়ে গেছে। সীমান্ত, বাণিজ্য, নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি এই ইস্যুটিও দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার প্রত্যর্পণের অনুরোধ এবং ভারতের পক্ষ থেকে আইনি প্রক্রিয়ার কথা বলা—দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে একটি পার্থক্য স্পষ্ট করছে। ঢাকা দ্রুত সমাধান চাইলেও দিল্লি এখনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে রাজি নয়।

তবে দুই দেশের কর্মকর্তাদের বক্তব্য থেকে এটুকু স্পষ্ট যে বিষয়টি কূটনৈতিক যোগাযোগের বাইরে নয়। বরং আইনি ও কূটনৈতিক—দুই স্তরেই আলোচনা এগোচ্ছে।

২০২৪ সালের পর থেকেই ভারতে শেখ হাসিনা

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তনের পর শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন এবং ভারতে অবস্থান নেন। এরপর থেকেই তাকে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে তার প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বিচারিক কার্যক্রমও এগিয়েছে। ফলে তার দেশে ফেরার প্রশ্নটি রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি একটি আইনি বিষয়েও পরিণত হয়েছে।

এখন ভারতের বক্তব্য হলো, বাংলাদেশের অনুরোধ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা চলছে। সেই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফেরার দিনক্ষণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

সামনে কী হতে পারে

হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভারতের চলমান আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি। বাংলাদেশ চাইছে, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানো হোক। ভারত বলছে, বিষয়টি আদালত-সম্পৃক্ত হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া সম্ভব নয়।

ফলে সামনে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়াই মূল ভূমিকা রাখবে। কোনো সিদ্ধান্ত এলে সেটি দুই দেশের সম্পর্কের ওপরও তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

এই মুহূর্তে সবচেয়ে স্পষ্ট বার্তা হলো—প্রক্রিয়া থেমে নেই, কিন্তু ফেরার সময়ও নির্ধারিত হয়নি। শেখ হাসিনাকে কখন এবং কীভাবে বাংলাদেশে ফেরানো হবে, তার উত্তর নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া ও দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।

মাসুম

About Author

I am a sarvent of Allah. I follow mohammad (sm) only. "La ilaha Illallahu Muhammadur rasulullah"

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র