আমদানিতে সংকট নেই, তবুও এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ দাম!
দেশের জ্বালানি বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি সিলিন্ডার) আমদানির পরিসংখ্যান কোনো ঘাটতির ইঙ্গিত না দিলেও সাধারণ মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। সরকারিভাবে নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ১২ কেজির একেকটি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে প্রায় দুই হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে।
আমদানিকারক সংস্থা ও বন্দরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরসহ আন্তর্জাতিক টার্মিনালগুলোতে গ্যাস খালাসের গতি স্বাভাবিক। তবুও রিটেইলার ও পাইকারি পর্যায়ে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই গায়েব হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার গ্যাসের বোতল। ভোক্তাদের অভিযোগ, কোম্পানি থেকে ডিলার এবং পরবর্তীতে খুচরা বিক্রেতা—এই তিন স্তরের অসাধু সমঝোতায় কৃত্রিম সংকট উসকে দেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া তো দূরের কথা, কোনো কোনো অঞ্চলে বাড়তি টাকা দিয়েও মেলা কঠিন হয়ে পড়েছে রান্নাঘরের এই নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানি।
বিইআরসি প্রতি মাসের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এলপিজির দর নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু রাজধানীর খুচরা বাজার থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেখা গেছে, ১,৫৮৫ টাকার সরকারি সিলিন্ডারের জন্য ক্রেতাকে বাধ্য হয়ে পকেট থেকে গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত ১,০০০ থেকে ১,৩০০ টাকা। এই অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধির কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-আয়ের সাধারণ মানুষ, যাদের দৈনন্দিন রান্নার একমাত্র ভরসা এখন বোতলজাত গ্যাস।





