জাতীয় ফিচার

বড় ঘোষণা: আগামী জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, শেষ হবে জুনের মধ্যে

জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হওয়ার সরকারি ঘোষণা।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী দেশের নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বড় ঘোষণা দিয়েছেন। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করে জানান, আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই দেশব্যাপী ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক সংস্কার এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রাথমিক জটিলতা কাটিয়ে এই বিশাল নির্বাচনী কর্মযজ্ঞের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হলো। একই সাথে তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্বাচন কমিশনের সাথে সমন্বয় করে আগামী বছরের ৬ই জুনের মধ্যে দেশের সকল স্তরের স্থানীয় নির্বাচন সম্পূর্ণ শেষ করার একটি ডেডলাইন বা সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
মূল হাইলাইটস
    • আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে দেশজুড়ে বহু প্রতীক্ষিত স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।
    • সব ধরনের আইনি ও সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে ৬ই জুনের মধ্যে সব ধাপের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার ডেডলাইন।
    • ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে করার লক্ষ্যে বিশেষ প্রস্তুতি।
    • নির্বাচন কমিশনের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে বিশেষ সমন্বয়।

তৃণমূলের ক্ষমতা কাঠামো পুনর্গঠন ও মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি
বাংলাদেশের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং পৌরসভাগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে আসায় এবং বেশ কিছু জায়গায় প্রশাসনিক শূন্যতা থাকায় মাঠপর্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজ স্থবির হয়ে পড়েছিল। এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্থবিরতা দূর করতে নতুন নির্বাচিত সরকারের পক্ষ থেকে এই চূড়ান্ত রোডম্যাপ প্রকাশ করা হলো। প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “গণতন্ত্রের আসল ভিত্তি মজবুত হয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে।”
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) প্রয়োজনীয় সব ধরনের লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এবারের নির্বাচনে যেন কোনো ধরনের পেশিশক্তি বা রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই বর্তমান প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
জুনের মধ্যে নির্বাচন শেষ করার কঠোর সময়সীমা ও চ্যালেঞ্জ
প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৬ই জুনের মধ্যে এই ভোট উৎসব সম্পন্ন করা নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ বাংলাদেশ একটি দূর্যোগপ্রবণ দেশ এবং বছরের মাঝামাঝি সময়ে বর্ষা ও বন্যার মওসুম শুরু হয়ে যায়। সেই আবহাওয়াগত দিক এবং শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষার রুটিন মাথায় রেখেই জুনের প্রথমার্ধকে ডেডলাইন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যেন সকল ধাপের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে শেষ করা যায়, সেজন্য নির্বাচন কমিশনকে একটি বিশেষ মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করার অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা পুলিশ ও আনসার সদস্যদের মোতায়েন এবং সংবেদনশীল কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বিগত আমলের মতো কোনো ধরনের পাতানো বা একতরফা নির্বাচন এবার বরদাশত করা হবে হবে না। প্রতিটি নাগরিক যেন কোনো রকম ভয়ভীতি ছাড়া নিজের ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রধান অগ্রাধিকার।
নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান
দেশে একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে নির্বাচন কমিশনের পূর্ণ প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। কমিশনের যেকোনো সিদ্ধান্তে সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না বলে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। এই ঘোষণার পর থেকেই দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝে এক ধরনের ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা ইতিমধ্যেই মাঠপর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি এবং নির্বাচনী প্রচারণার অনানুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন।
সাধারণ ভোটার ও সচেতন মহলের প্রত্যাশা
দেশের সাধারণ মানুষ ও সচেতন নাগরিক সমাজ সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাচ্ছে। তারা মনে করছেন, দ্রুত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জনপ্রতিনিধিদের হাতে ফিরে এলে গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন গতিশীল হবে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। এখন সবার দৃষ্টি নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার দিকে, যা আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বরের শুরুতে প্রকাশ পেতে পারে।

মাসুম

About Author

I am a sarvent of Allah. I follow mohammad (sm) only. "La ilaha Illallahu Muhammadur rasulullah"

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র