বিশ্ব সংযোগ শীর্ষ দুই

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৮ বিলিয়ন ডলার

ইরান-যুদ্ধ-যুক্তরাষ্ট্র-010143-NewsEdge24

ইরানের সঙ্গে ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ইতোমধ্যে প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। সংঘাত অব্যাহত থাকলে প্রতি মাসে আরও ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার করে ব্যয় বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের নির্দলীয় বাজেট দপ্তর (সিবিও)।

মঙ্গলবার প্রকাশিত সিবিওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টের ১ তারিখ পর্যন্ত যুদ্ধের ব্যয়ের হিসাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংঘাতের কারণে ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি প্রায় ০.৫ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

যুদ্ধের বাড়তি ব্যয়ের পাশাপাশি মার্কিন সামরিক বাহিনীর গোলাবারুদের মজুতেও চাপ তৈরি হয়েছে। সিবিওর হিসাবে, ক্ষেপণাস্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জামের মজুত পুনরায় পূরণ করতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। এ ঘাটতি ভবিষ্যতে অন্য কোনো বড় সংঘাতের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে বলেও প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগের অন্যতম বিষয় হলো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকারী অস্ত্রের মজুত। সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সংঘাত, বিশেষ করে চীন-তাইওয়ানকে ঘিরে পরিস্থিতি তৈরি হলে এসব সরঞ্জামের ঘাটতি মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে সিবিও জানিয়েছে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতির এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত নয়। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সামরিক অভিযানকে ‘সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে প্রেসিডেন্টের কৌশলগত লক্ষ্য পূরণের জন্য পর্যাপ্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেলও মজুতের ঘাটতির কথা অস্বীকার করেছেন।

সিবিওর এই ব্যয়ের হিসাব করা হয়েছে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য ব্রেন্ডন বয়েলের অনুরোধে। বয়েল বলেন, যুদ্ধের মানবিক ক্ষতির পাশাপাশি মার্কিন করদাতাদের ওপরও এর ব্যয়ের চাপ বাড়ছে।

ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে সিবিওর হিসাবের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় চালানো কিছু হামলার ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যুদ্ধের অর্থায়নে ঋণ নেওয়ার সুদ বা অন্যান্য ব্যয়ও এতে ধরা হয়নি। ফলে প্রকৃত মোট ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন: মার্কিন সামরিক ভাণ্ডারে অত্যাধুনিক অস্ত্রের তীব্র সংকট

যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানির বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই সংকীর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে তেলের দাম বেড়েছে এবং ভোক্তা ও উৎপাদক উভয় পর্যায়েই অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তে থাকা বাজেট ঘাটতি ও সরকারি ঋণের চাপ। আগস্টে দেশটির মোট সরকারি ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

তুলনামূলকভাবে ইরাক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার এবং আফগানিস্তানে দুই দশকের যুদ্ধে প্রায় ২.৩ ট্রিলিয়ন ডলার হয়েছিল। বর্তমান ইরান যুদ্ধের ছয় মাসের ব্যয় সেই তুলনায় অনেক কম হলেও সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

দেশ সংযোগ বিশ্ব সংযোগ

চীনে কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে ১১ শ্রমিক নিহত

চীনের উত্তরাঞ্চলীয় শানজি প্রদেশের একটি কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে অন্তত ১১ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২৬
দেশ সংযোগ বিশ্ব সংযোগ

ভারতের মিজোরামে নির্মাণাধীন সেতু ধসে ১৭ জনের প্রাণহানি

ভারতের মিজোরামে রেলওয়ের একটি নির্মাণাধীন সেতু ধসে ১৭ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সেখানে আরও অনেকে আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা