মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের এপিএসদের মূল বেতন নির্ধারণ করে নতুন প্রজ্ঞাপন
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সহকারী একান্ত সচিব বা এপিএসদের মূল বেতন কাঠামো নির্দিষ্ট করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এই আদেশের ফলে এখন থেকে জাতীয় বেতন স্কেলের নির্দিষ্ট গ্রেড অনুযায়ী তাদের মাসিক সম্মানী নির্ধারিত হবে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য ও প্রশাসনিক জটিলতা সম্পূর্ণ দূর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
এক নজরে
-
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সহকারী একান্ত সচিবদের (এপিএস) বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
-
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর নবম গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপে তাদের মূল বেতন সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।
-
প্রেষণে আসা সরকারি কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় বাইরে থেকে আসা চুক্তিভিত্তিক এপিএসদের বেতন নির্ধারণের আলাদা নিয়ম স্পষ্ট করা হয়েছে।
-
এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং এর ফলে সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
নতুন প্রজ্ঞাপনে এপিএসদের মূল বেতন এর রূপরেখা
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এই আদেশ অনুযায়ী, বাইরে থেকে আসা রাজনৈতিক বা চুক্তিভিত্তিক সহকারী একান্ত সচিবদের বেতন এখন থেকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর নবম গ্রেড ভুক্ত হবে। এই গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২২,০০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে। এর বাইরে তারা নিয়ম অনুযায়ী বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সরকারের নির্ধারিত কোটা থেকে পাবেন। ইতিপূর্বে এই পদে নিয়োগ প্রাপ্তদের বেতন নির্ধারণে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অভাব থাকায় প্রায়ই নানা ধরণের জটিলতা তৈরি হতো।
সরকার মনে করছে, এই স্পষ্টীকরণের ফলে প্রশাসনের ভেতরের আর্থিক জবাবদিহিতা অনেক বৃদ্ধি পাবে। নির্দিষ্ট আর্থিক কাঠামোর মধ্যে আসার কারণে এখন থেকে হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (সিজিএ) সহজেই তাদের মাসিক বেতন বিল পাস করতে পারবে। এর আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নিযুক্ত কর্মকর্তাদের বেতনের ক্ষেত্রে কিছু অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। নতুন এই প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর সেই সব দ্বিধাদ্বন্দ্বের সম্পূর্ণ অবসান ঘটল।
প্রেষণে আসা কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা
যেসব সরকারি কর্মকর্তা বর্তমানে প্রেষণে কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর এপিএস হিসেবে কাজ করছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই বেতন কাঠামোর কিছু ভিন্নতা রয়েছে। তারা মূলত তাদের নিজস্ব মূল ক্যাডারের বা সার্ভিস গ্রেডের বেতন ও সিনিয়রিটি বজায় রাখবেন। তবে পদের কারণে সরকারের পক্ষ থেকে যে বিশেষ ভাতা বরাদ্দ রয়েছে, তা তারা অতিরিক্ত হিসেবে নিয়মানুযায়ী পাবেন। এই আদেশের ফলে ক্যাডার কর্মকর্তা ও বাইরে থেকে আসা কর্মকর্তাদের দায়িত্ব এবং আর্থিক সুবিধার পরিধি স্পষ্ট আলাদা করা হয়েছে।
অনেক সময় দেখা যায়, একই মন্ত্রণালয়ে কর্মরত দুজন এপিএস-এর বেতন বৈষম্যের কারণে কাজের গতি বাধাগ্রস্ত হয়। সরকার এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য দীর্ঘদিন ধরে একটি সমন্বিত গাইডলাইন তৈরির কাজ করছিল। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে কয়েক দফা বৈঠকের পর অবশেষে এই বেতন কাঠামোর ফাইল চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। এর ফলে একই মর্যাদার সব কর্মকর্তা সমান আর্থিক সুযোগের আওতায় চলে এলেন।
সরকারি কোষাগারে এর প্রভাব ও এপিএসদের মূল বেতন
প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তকে একটি ইতিবাচক এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের সহায়তাকারীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কাঠামো সুনির্দিষ্ট করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। নতুন নিয়মে এপিএসদের মূল বেতন সুনির্দিষ্ট হওয়ায় বাজেট থেকে এই খাতের বার্ষিক বরাদ্দ নির্ধারণ করা আগের চেয়ে অনেক সহজ হবে। কোনো মন্ত্রীর দফতর এখন থেকে নিজেদের ইচ্ছামতো এপিএসদের অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা বা অর্থ প্রদান করতে পারবে না।
এই নিয়মের ফলে সরকারি অর্থ অপচয়ের সুযোগ অনেকাংশে কমে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। সচিবালয়ের ভেতরের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং কর্মকর্তাদের কাজের প্রতি আরও মনোযোগী করতে এই প্রজ্ঞাপন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই আদেশ অবিলম্বে দেশের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য কার্যকর বলে গণ্য হবে। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে দ্রুত এই আদেশ বাস্তবায়নের নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
সুযোগ-সুবিধা এবং উৎসব ভাতার নতুন নিয়ম
মূল বেতনের পাশাপাশি উৎসব ভাতা, বৈশাখী ভাতা এবং যাতায়াত সুবিধার বিষয়েও প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। বাইরে থেকে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তরা প্রতি বছর সরকারের নিয়ম অনুযায়ী দুটি মূল উৎসব বোনাস এবং একটি বাংলা নববর্ষ ভাতা পাবেন। চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রেও সাধারণ সরকারি কর্মচারীদের মতো সমপরিমাণ অর্থ বরাদ্দ থাকবে তাদের জন্য। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই তাদের এই চাকুরির চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
মন্ত্রীর ব্যক্তিগত পছন্দে নিয়োগ পাওয়া এসব কর্মকর্তাদের কাজের পরিধি অনেক সময় সুনির্দিষ্ট থাকে না। তবে আর্থিক বিষয়ের এই স্পষ্টতা তাদের দায়িত্ব পালনে আরও বেশি পেশাদারিত্ব আনতে সাহায্য করবে। প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত এই বার্তার মাধ্যমে একটি সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে। সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে বিভিন্ন মহলে স্বাগত জানানো হয়েছে।
এই বিষয়ের সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: বাইরে থেকে আসা চুক্তিভিত্তিক এপিএসদের মূল বেতন কত গ্রেডে নির্ধারিত হয়েছে?
উত্তর: নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাইরে থেকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া সহকারী একান্ত সচিবদের (এপিএস) মূল বেতন জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর নবম গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপে নির্ধারিত হবে।
প্রশ্ন: সরকারি কর্মকর্তাদের যারা প্রেষণে এপিএস হয়েছেন, তাদের বেতন কীভাবে চলবে?
উত্তর: প্রেষণে আসা কর্মকর্তারা তাদের মূল পদের সার্ভিস গ্রেড ও সিনিয়রিটি অনুযায়ী মূল বেতন পাবেন। এর বাইরে তারা এই পদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ সরকারি ভাতা ও সুবিধা পাবেন।
প্রশ্ন: মন্ত্রীর মেয়াদ শেষ হলে চুক্তিভিত্তিক এপিএসদের চাকুরির কী হবে?
উত্তর: সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথে বাইরে থেকে আসা চুক্তিভিত্তিক এপিএসদের নিয়োগ এবং সব ধরণের বেতন-ভাতা পাওয়ার অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
Tags: এপিএসদের মূল বেতন, সরকারি প্রজ্ঞাপন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, সচিবালয় সংবাদ, বিদেশ নিউজ





