সংসদে কার্যকর ভূমিকার তাগিদ: নারী এমপিদের প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
জাতীয় সংসদে শক্তিশালী ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সংরক্ষিত আসনের বিএনপি দলীয় নবনির্বাচিত নারী এমপিদের পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, কেবল আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি নয়, বরং মেধা ও তথ্য দিয়ে সংসদকে প্রাণবন্ত করতে হবে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং জনগণের কণ্ঠস্বর আইনসভায় সঠিকভাবে তুলে ধরতে বিরোধী ও সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। সোমবারের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি ছিল মূলত সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংসদীয় রীতিনীতি ও দায়িত্ব সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলীয় নারী আইনপ্রণেতাদের আইনসভার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনপ্রতিনিধি হিসেবে নারী এমপিদের দায়িত্বের পরিধি স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, একজন যোগ্য সংসদ সদস্য হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হলে সবার আগে তথ্যসমৃদ্ধ হতে হবে। যেকোনো বিল, বাজেট বা জাতীয় ইস্যুতে আলোচনার সময় আবেগ বা চটকদার কথার চেয়ে অকাট্য যুক্তি ও সঠিক উপাত্ত বেশি কার্যকর। আর এই দক্ষতা অর্জনের জন্য পড়াশোনা এবং গবেষণার মনোভাব তৈরি করার পরামর্শ দেন তিনি।
একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আইন প্রণয়নের মূল হাতিয়ার অর্থাৎ ‘জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি’ সম্পর্কে পরিষ্কার ও নিখুঁত ধারণা রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। অভিজ্ঞ সংসদীয় সাংবাদিকদের মতে, অনেক সময় কার্যপ্রণালি বিধির মারপ্যাঁচ না জানার কারণে অনেক সংসদ সদস্য গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ বা জনগুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলতে ব্যর্থ হন।
প্রধানমন্ত্রী সেই ঘাটতি পূরণে দলীয় সংসদ সদস্যদের এখন থেকেই নিয়মকানুন আত্মস্থ করার তাগিদ দিয়েছেন, যা দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের গুণগত মান বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের ভূমিকা বরাবরই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সময়োপযোগী নির্দেশনা নবনির্বাচিত নারী এমপিদের দায়িত্ববোধকে আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।





