‘নখদন্তহীন’ থাকবে না মানবাধিকার কমিশন: আইনমন্ত্রী
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। রোববার বিকেলে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি আশ্বস্ত করেন, কমিশন যেন আর ‘নখদন্তহীন’ বা ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করবে মন্ত্রণালয়। তবে একই সভায় বিগত বছরগুলোতে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে বিচারহীনতার আক্ষেপ প্রকাশ করা হয়।
মানবাধিকার রক্ষা ও লঙ্ঘনের ঘটনায় দেশের সর্বোচ্চ এই রাষ্ট্রীয় সংস্থাটির আইনি সীমাবদ্ধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা চলছে। সাধারণ মানুষের ধারণা, কমিশন কেবল সুপারিশ করতে পারে, কিন্তু কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। এই ধারণার অবসান ঘটাতেই সরকার আইনি সংস্কারের হাত দিয়েছে।
সিরডাপ মিলনায়তনে মানবাধিকার কমিশন আইন প্রণয়ন ও সংশোধন সংক্রান্ত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “আমরা এমন একটি আইনি কাঠামো তৈরি করতে যাচ্ছি যেখানে মানবাধিকার কমিশন নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে। অতীতের মতো এটি কেবল ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে থাকবে না। মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিটি ঘটনায় কমিশন যেন দৃশ্যমান ভূমিকা রাখতে পারে, নতুন আইনে সেই বিষয়টিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।”
আইনমন্ত্রীর এই আশ্বাসের সমান্তরালে অনুষ্ঠানে উঠে আসে বিগত দেড় দশকের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও আক্ষেপের চিত্র। দীর্ঘদিন ধরে গুম হওয়া ব্যক্তি এবং তাদের স্বজনদের অধিকার আদায়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করে আসা সংসদ সদস্য সানজিদা তুলি সভায় তার তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি যখন চরম সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে, তখন এই কমিশন ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়াতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। কমিশনের এই নিষ্ক্রিয়তাকে তিনি চরম হতাশাজনক বলে আখ্যা দেন।
একই সুরে নিজের জীবনের ট্র্যাজেডি ও বিচারহীনতার কথা তুলে ধরেন সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদি। বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার পর থেকে দীর্ঘ লড়াইয়ের পথ পেরিয়ে সংসদে আসা এই নেত্রী বলেন, “স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার পর গুম হওয়া পরিবারগুলোর বিচার নিশ্চিত করার তাগিদ থেকেই আমি রাজনীতিতে এসেছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে যে ‘গুম কমিশন’ গঠন করা হয়েছিল, আজ পর্যন্ত তার কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি বা সুনির্দিষ্ট আপডেট আমাদের জানানো হয়নি। আমরা এখনও অন্ধকারের মধ্যেই রয়ে গেছি।”





