অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালে ভর্তি সোনিয়া গান্ধী
ভারতের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় কংগ্রেসের প্রবীণ নেত্রী ও সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) সকালে তাকে গুরুগ্রামের বিখ্যাত ‘মেদান্তা–দ্য মেডিসিটি’ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি বিশেষজ্ঞদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। জানা গেছে, পরিকল্পিত অস্ত্রোপচার ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবেই তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
৭৯ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং বর্তমান রাজ্যসভা সদস্য বেশ কিছুদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি হাসপাতাল সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, আজ বুধবার ভোরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের এই কাণ্ডারিকে হাসপাতালে ভর্তির খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
মেদান্তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোনিয়া গান্ধীর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। তার বিভিন্ন মেডিকেল পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। মূলত একটি ছোট অস্ত্রোপচারের (সার্জারি) তারিখ আগেই নির্ধারিত ছিল, সেই উদ্দেশ্যেই তাকে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের কার্ডিওলজি ও পালমনোলজি বিভাগের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসার দেখভাল করছেন। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কোনো জরুরি বা আকস্মিক ভর্তি নয়, বরং রুটিন চেকআপের অংশ।
গত কয়েক বছর ধরেই সোনিয়া গান্ধী রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নিয়েছেন। তবে পর্দার আড়ালে থেকে এখনও দলের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তিনি। বয়স জনিত কারণে তাকে মাঝে মাঝেই দিল্লির স্যার গঙ্গারাম হাসপাতাল বা বিদেশের হাসপাতালে চেকআপের জন্য যেতে হয়। এবারের ভর্তির বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ের হাসপাতালে হওয়ায় দিল্লির রাজনীতিতে এটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, তার ছেলে রাহুল গান্ধী এবং মেয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র হাসপাতালে উপস্থিত রয়েছেন। কংগ্রেসের হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের প্রিয় নেত্রীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন। তবে ঠিক কতদিন তাকে হাসপাতালে থাকতে হতে পারে, সে বিষয়ে চিকিৎসকরা এখনও চূড়ান্ত কিছু জানাননি।





