দেশে হামের ২৪ ঘণ্টায় ৬ মৃত্যু, মোট সন্দেহভাজন রোগী ৫০ হাজার ছাড়াল
সারাদেশে সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রাদুর্ভাব জনমনে নতুন করে শঙ্কা জাগিয়ে তুলছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও এই সময়ে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি, তবে মাত্র দুই মাসেই সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়াকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বড় বিপদ সংকেত হিসেবে দেখছেন।
সোমবার (১১ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৫০ হাজারের ঘরে। এই বিশাল সংখ্যক রোগীর পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মাঠ পর্যায়ে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এখনও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় যে ছয়জন মারা গেছেন, তারা সবাই হামের উপসর্গ বা ক্লিনিক্যাল লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, নির্দিষ্ট ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের দেহে হামের ভাইরাস শতভাগ নিশ্চিত না হওয়ায় এই মৃত্যুকে সরাসরি ‘হামে মৃত্যু’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়নি। তবে মাঠ পর্যায়ের চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ জ্বর, শরীরে লালচে র্যাশ বা দানা এবং তীব্র শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণগুলো স্পষ্টভাবেই হামের দিকে নির্দেশ করছে। ল্যাব পরীক্ষার ফলাফল আসতে সময় লাগার কারণে অনেক সময় প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃত্যুর কারণ অস্পষ্ট থেকে যাচ্ছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে যে সংক্রমণের শুরু হয়েছিল, তা মে মাসের মাঝামাঝি এসে আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং দুর্গম অঞ্চলগুলোতে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, টিকাদান কর্মসূচিতে কোনো গ্যাপ বা ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। ৫০ হাজার রোগীর এই বিশাল সংখ্যাটি কেবল যারা হাসপাতালে এসেছেন তাদের প্রতিনিধিত্ব করে; কিন্তু বিশাল এক গোষ্ঠী এখনও হাসপাতালে না এসে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন, যাদের তথ্য সরকারি খাতায় নেই।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার নিয়মিত মনিটরিং করছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে বিশেষায়িত সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে কেবল সরকারি ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া সবচেয়ে জরুরি। শিশুর জ্বর বা শরীরে দানা দেখা দিলেই তাকে আইসোলেশনে রাখা এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।





