জাতীয় ফিচার

শেষ হলো চার দিনের ডিসি সম্মেলন, নৈশভোজে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

শেষ হলো চার দিনের ডিসি সম্মেলন, নৈশভোজে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

কেন্দ্রীয় প্রশাসনের নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে পর্দা নামল চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের।

বুধবার (৬ মে) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সমাপনী অধিবেশনের মধ্য দিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সভার সমাপ্তি ঘটে। সম্মেলন শেষে রাতে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক বিশেষ নৈশভোজ অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।

গত রোববার প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর থেকেই কর্মচঞ্চল ছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সম্মেলনের শেষ দিনটি ছিল কর্মকর্তাদের জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং। এদিন সকাল থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের মোট ৯টি কার্য অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব অধিবেশনে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ৬৪ জেলার ডিসিরা।

প্রতিটি অধিবেশনেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবরা জেলা প্রশাসকদের নানা দিকনির্দেশনা দেন। বিশেষ করে সরকারি প্রকল্পের অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই সম্মেলনে জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে প্রায় দুই শতাধিক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, যার সিংহভাগই ছিল প্রশাসনিক সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়ানো নিয়ে।

বিএএসএ সভা ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নৈশভোজ

সমাপনী অধিবেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর সন্ধ্যার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএএসএ) সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র সংলগ্ন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই সভায় প্রশাসনের গতিশীলতা আনয়ন এবং কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভার পর সেখানে এক আড়ম্বরপূর্ণ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গে এই নৈশভোজে অংশ নেন। আনুষ্ঠানিক আলোচনার বাইরে এই নৈশভোজটি ছিল একটি চমৎকার অনানুষ্ঠানিক পরিবেশ, যেখানে প্রধানমন্ত্রী মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং তাদের প্রশাসনিক কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন।

প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু থেকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো তৃণমূল পর্যায়ে বাস্তবায়ন করেন মূলত এই জেলা প্রশাসকরাই। চার দিনের এই দীর্ঘ ম্যারাথন বৈঠক শেষে ডিসিরা যখন নিজ নিজ জেলায় ফিরবেন, তখন তাদের কাঁধে থাকবে নতুন বছরের নতুন সব লক্ষ্যমাত্রা। এবারের সম্মেলনে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং ভূমি সেবা ডিজিটালাইজেশনের ওপর যে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে, তার প্রতিফলন আগামী কয়েক মাসেই সাধারণ মানুষ অনুভব করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিশেষে বলা যায়, ২০২৬ সালের এই ডিসি সম্মেলন কেবল একটি প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা মাঠ পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র