ফিচার স্বাস্থ্য

গরমে শরীর চনমনে রাখার সস্তা ও জাদুকরী টোটকা ভাতের মাড়

গরমে শরীর চনমনে রাখার সস্তা ও জাদুকরী টোটকা ভাতের মাড়

তীব্র দাবদাহে যখন জনজীবন ওষ্ঠাগত, তখন শরীরকে ভেতর থেকে শীতল ও চনমনে রাখতে ভাতের মাড় বা ‘রাইস ওয়াটার’ হতে পারে এক অব্যর্থ প্রাকৃতিক সমাধান। সহজলভ্য ও পুষ্টিগুণে ভরপুর এই পানীয়টি ক্লান্তি দূর করার পাশাপাশি শরীরের পানিশূন্যতা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদরা।

বাঙালি পরিবারে ভাত রান্নার পর মাড় ফেলে দেওয়ার চল দীর্ঘদিনের। কিন্তু আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান ও প্রাচীন আয়ুর্বেদ—উভয় শাস্ত্রই বলছে, এই সাদাটে ঘোলাটে তরলটি আসলে খনিজ ও কার্বোহাইড্রেটের এক শক্তিশালী উৎস। বিশেষ করে বর্তমানের এই দহনবেলায়, যখন অতিরিক্ত ঘামে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় লবণ বেরিয়ে যায়, তখন ভাতের মাড় অনেকটা প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংকের মতো কাজ করে।

কেন খাবেন ভাতের মাড়?

ভাতের মাড়ে থাকা স্টার্চ বা শ্বেতসার শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। রান্নার সময় চালের পুষ্টিগুণের একটি বড় অংশ এই পানিতে মিশে যায়। এতে আছে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, ই এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান যা হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। যারা গরমে গ্যাস্ট্রিক বা পেটের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য এটি ওষুধের চেয়েও ভালো কাজ করে। এটি অন্ত্রের প্রদাহ কমিয়ে পেট ঠান্ডা রাখে।

পুষ্টিগুণের ব্যবচ্ছেদ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা

ভাতের মাড় কেবল তৃষ্ণা মেটায় না, বরং এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করতে বিশেষ পারদর্শী। এর প্রধান কিছু গুণাগুণ নিচে তুলে ধরা হলো:

  • প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট: গরমে ঘামের সাথে শরীর থেকে পটাশিয়াম ও সোডিয়াম বেরিয়ে যায়। এক গ্লাস মাড় সেই ঘাটতি পূরণ করে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।

  • হজমশক্তির উন্নতি: এতে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।

  • ত্বক ও চুলের সুরক্ষা: পানীয় হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি এই পানি ত্বক ও চুলের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এবং রোদে পোড়া ভাব (Sunburn) দূর করতে দারুণ কার্যকর।

  • তাৎক্ষণিক শক্তি: দীর্ঘক্ষণ রোদে কাজ করার পর এক গ্লাস মাড় খেলে ক্লান্তি নিমেষেই দূর হয়, কারণ এটি কার্বোহাইড্রেটের সহজলভ্য উৎস।

যেভাবে তৈরি করবেন সুস্বাদু পানীয়

অনেকেই ভাতের মাড় শুধু খেতে পছন্দ করেন না। সেক্ষেত্রে এতে এক চিমটি বিট লবণ, সামান্য লেবুর রস এবং পুদিনা পাতা মিশিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন ‘দেশি এনার্জি ড্রিংক’। আবার চাইলে সামান্য জিরে গুঁড়ো মিশিয়েও এটি পরিবেশন করা যায়। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত বাসি মাড় না খেয়ে টাটকা মাড় হালকা ঠান্ডা করে পান করা স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ।

আমাদের হাতের কাছে থাকা অতি সাধারণ এই উপাদানটি যে কতটা অসাধারণ হতে পারে, ভাতের মাড় তার জ্বলন্ত উদাহরণ। আধুনিকতা আর শৌখিনতার ভিড়ে আমরা আমাদের শেকড়ের এই সহজ স্বাস্থ্যকর উপায়গুলো ভুলে গিয়েছিলাম।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
ফিচার ব্যবসা-বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সর্বশেষ কার্যদিবসে আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার