ফিচার বিনোদন

ভয়ের সিনেমা, শুধু বিনোদন, নাকি নীরবে বদলে দিচ্ছে আপনার মস্তিষ্ক?

ভয়ের সিনেমা, শুধু বিনোদন, নাকি নীরবে বদলে দিচ্ছে আপনার মস্তিষ্ক?

অন্ধকার ঘর, হঠাৎ দরজা কাঁপা কিংবা অজানা ছায়ার উপস্থিতি—ভয়ের সিনেমা অনেকের কাছেই নিছক বিনোদন, আবার কারও কাছে রোমাঞ্চের উৎস। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঝে মধ্যে দেখলে সমস্যা না হলেও নিয়মিত এমন কনটেন্ট দেখার প্রভাব মস্তিষ্ক ও মানসিক স্বাস্থ্যে পড়তে পারে।

ভয়ের সিনেমা মানুষের প্রাকৃতিক ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ প্রতিক্রিয়াকে সক্রিয় করে। পর্দায় ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখার সময় মস্তিষ্ক সেটিকে বাস্তব বিপদ হিসেবে ধরে নিয়ে অ্যাড্রেনালিন হরমোন নিঃসরণ করে। এর ফলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, শরীর সতর্ক হয়ে ওঠে, এবং দর্শক একধরনের উত্তেজনা অনুভব করেন। অনেকেই এই অনুভূতিকেই উপভোগ করেন।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মাঝে মধ্যে ভয়ের সিনেমা দেখা কিছু মানুষের জন্য মানসিক চাপ কমাতেও সাহায্য করতে পারে। কারণ এতে জমে থাকা আবেগ বের হয়ে আসে এবং এক ধরনের ‘ক্যাথারসিস’ তৈরি হয়। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এটি একটি জনপ্রিয় বিনোদন মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

তবে সমস্যার শুরু হয় যখন এটি অভ্যাসে পরিণত হয়। নিয়মিত বা অতিরিক্ত ভয়ের কনটেন্ট দেখলে মস্তিষ্কের সংবেদনশীলতা পরিবর্তিত হতে পারে। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক বিষয়েও ভয় বা উদ্বেগ তৈরি হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। অনেক ক্ষেত্রে এটি ঘুমের ব্যাঘাত, দুঃস্বপ্ন কিংবা দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগজনিত সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও বেশি। তাদের মস্তিষ্ক এখনো পুরোপুরি বিকশিত হয়নি, ফলে তারা বাস্তবতা ও কল্পনার মধ্যে পার্থক্য করতে অনেক সময় ব্যর্থ হয়। এর ফলে ভয় স্থায়ী হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা পরবর্তীতে আচরণগত সমস্যার রূপ নিতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ডিসেনসিটাইজেশন বা সংবেদনশীলতা কমে যাওয়া। অতিরিক্ত ভয়ংকর দৃশ্য দেখতে দেখতে অনেকের মধ্যে সহিংসতা বা ভয়াবহতার প্রতি এক ধরনের উদাসীনতা তৈরি হতে পারে। এতে বাস্তব জীবনের ঘটনাগুলোর প্রতি স্বাভাবিক আবেগীয় প্রতিক্রিয়া কমে যায়।

মূল তথ্য এক নজরে:

  • মাঝে মধ্যে ভয়ের সিনেমা দেখা সাধারণত ক্ষতিকর নয়
  • এটি অ্যাড্রেনালিন বাড়িয়ে উত্তেজনা তৈরি করে
  • অতিরিক্ত দেখলে উদ্বেগ, দুঃস্বপ্ন ও ঘুমের সমস্যা হতে পারে
  • শিশু-কিশোরদের ওপর প্রভাব তুলনামূলক বেশি
  • দীর্ঘমেয়াদে সংবেদনশীলতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে

মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, ভয়ের সিনেমা উপভোগ করতে হলে সেটি সীমার মধ্যে রাখা জরুরি। বিশেষ করে ঘুমানোর আগে এমন কনটেন্ট এড়িয়ে চলা ভালো। একই সঙ্গে নিজের মানসিক অবস্থার প্রতি সচেতন থাকা প্রয়োজন—যদি কোনো ধরনের অস্বস্তি বা দীর্ঘস্থায়ী ভয় তৈরি হয়, তাহলে সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

সবশেষে বলা যায়, ভয়ের সিনেমা নিছক বিনোদন হিসেবেই নিরাপদ—যদি তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে। তবে সীমা অতিক্রম করলেই এটি নিঃশব্দে মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
ফিচার ব্যবসা-বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সর্বশেষ কার্যদিবসে আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার