ফিচার স্বাস্থ্য

বাড়ছে প্রাদুর্ভাব: হাম কী, কীভাবে ছড়ায় এবং আক্রান্ত হলে করণীয় কী?

বাড়ছে প্রাদুর্ভাব: হাম কী, কীভাবে ছড়ায় এবং আক্রান্ত হলে করণীয় কী?

দেশের বিভিন্ন জেলায় শিশুদের মধ্যে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। জ্বর ও শরীরে র‍্যাশ নিয়ে হাসপাতালে ভিড় করছেন অভিভাবকেরা। ইতিমধ্যে কয়েকটি শিশুমৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে হাম সম্পর্কে সচেতনতা ও সঠিক চিকিৎসা জানা জরুরি হয়ে উঠেছে।

শিশুদের মধ্যে হঠাৎ জ্বর, চোখ লাল হওয়া, কাশি এবং শরীরে লালচে র‍্যাশ—এই উপসর্গগুলো দেখা দিলে অনেক ক্ষেত্রেই তা হাম হিসেবে শনাক্ত হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সময়মতো চিকিৎসা না পেলে মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাম রোগের কারণ ‘মিজলস ভাইরাস’, যা বাতাসের মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তিতে সংক্রমিত হয়। আক্রান্ত শিশুর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাস অন্য শিশুদের শরীরে প্রবেশ করে। এমনকি একই ঘরে থাকা বা সংস্পর্শে এলেও সহজেই এই রোগ ছড়াতে পারে।

চিকিৎসকরা জানান, সাধারণত প্রথমে উচ্চ জ্বর দিয়ে হাম শুরু হয়। এরপর চোখ লাল হয়ে যায়, নাক দিয়ে পানি পড়ে এবং কয়েকদিনের মধ্যে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ দেখা দেয়। এই র‍্যাশ প্রথমে মুখে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে শিশু দুর্বল হয়ে পড়ে এবং খাওয়ায় অনীহা দেখা দেয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অপুষ্টি, টিকা না নেওয়া এবং ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস—এই তিনটি কারণ হাম ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে যারা নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসেনি, তাদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, হাম হলে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিকভাবে পরিচর্যা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি নিজে থেকেই সেরে যায়, তবে জটিলতা এড়াতে সতর্ক থাকতে হবে। শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রামে রাখা, প্রচুর তরল খাবার দেওয়া এবং পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে জ্বর নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ দিতে হবে।

তবে যদি শিশুর শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর বা অস্বাভাবিক অবস্থা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এসব লক্ষণ নিউমোনিয়া বা অন্যান্য জটিলতার ইঙ্গিত হতে পারে, যা জীবনহানির ঝুঁকি বাড়ায়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় টিকাদান কর্মসূচিকে আরও জোরদার করা প্রয়োজন। হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকা নেওয়া।

হামের প্রাদুর্ভাব বর্তমান সময়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে। সচেতনতা, সময়মতো টিকাদান এবং সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে এই রোগ থেকে শিশুদের সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
ফিচার ব্যবসা-বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সর্বশেষ কার্যদিবসে আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার