খাবারেই মিলতে পারে মানসিক স্বস্তি: উদ্বেগ কমাতে কী রাখবেন প্রতিদিনের প্লেটে?
অ্যাংজাইটি বা উদ্বেগজনিত সমস্যা বিশ্বজুড়ে বাড়ছে, বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ওষুধ বা থেরাপি নয়—দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসও মানসিক চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ‘পুষ্টিগত মনোবিজ্ঞান’ এখন এ ক্ষেত্রেই নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।
দ্রুতগতির জীবন, কর্মক্ষেত্রের চাপ, অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে আধুনিক সময়ে উদ্বেগ একটি সাধারণ মানসিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। অনেকেই এই সমস্যাকে অবহেলা করেন বা সাময়িক দুশ্চিন্তা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি অ্যাংজাইটি শরীর ও মনের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে ‘পুষ্টিগত মনোবিজ্ঞান’ বা নিউট্রিশনাল সাইকোলজি নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে। এই গবেষণা শাখা বলছে, আমরা কী খাচ্ছি তা শুধু শরীর নয়, সরাসরি মস্তিষ্কের কার্যক্রম ও মানসিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে। অর্থাৎ, সঠিক খাদ্যাভ্যাস মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু খাবার রয়েছে যা স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখতে এবং মুড স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর। যেমন—
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ মাছ (ইলিশ, সালমন), যা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা উন্নত করে এবং উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে।
সবুজ শাকসবজি, বিশেষ করে পালং শাক ও ব্রকলি—যেগুলোতে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, যা স্নায়ু শিথিল করতে ভূমিকা রাখে।
বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার (কাঠবাদাম, আখরোট), যা শরীরে ভালো ফ্যাট সরবরাহ করে এবং স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
অন্যদিকে, অতিরিক্ত ক্যাফেইন, চিনি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার অ্যাংজাইটির মাত্রা বাড়াতে পারে। নিয়মিত ফাস্টফুড বা অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার খেলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা মানসিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
এছাড়া অন্ত্রের স্বাস্থ্য বা ‘গাট হেলথ’ বর্তমানে মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে। দই, প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার এবং আঁশযুক্ত খাদ্য অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে, যা মস্তিষ্কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে মানসিক স্বস্তি বাড়াতে সহায়ক।
পুষ্টিবিদদের মতে, শুধু নির্দিষ্ট খাবার নয়, খাওয়ার সময় ও নিয়মও গুরুত্বপূর্ণ। অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া বা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা রক্তে শর্করার ওঠানামা ঘটায়, যা উদ্বেগ ও বিরক্তি বাড়াতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময় অন্তর পরিমিত খাবার গ্রহণ করাই উত্তম।





